আবর্জনার ভাগাড়, দখল ও দূষণে অস্তিত্ব সংকটে হাটবোয়ালিয়া অংশের মাথাভাঙ্গা নদী

হাটবোয়ালিয়া প্রতিনিধি
আলমডাঙ্গা উপজেলার হাটবোয়ালিয়া গ্রামের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মাথাভাঙ্গা নদী বর্তমানে দখল ও দূষণের কারণে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। একসময়ের খরস্রোতা ও প্রাণবন্ত এই নদী এখন নাব্যতা হারিয়ে চিকন নালায় পরিণত হয়েছে। নদীর দুই তীর দখল হয়ে যাচ্ছে এবং বিভিন্ন বর্জ্য ও আবর্জনা ফেলায় পানির ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ফলে নদীর মাছ ও জীববৈচিত্র হুমকির মুখে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এক সময় এই নদীতে সারা বছর পানি প্রবাহিত হতো এবং নানা প্রজাতির দেশীয় মাছ পাওয়া যেত। বর্তমানে নদীতে হাঁটুর নিচে বা সামান্য পানি থাকে, বর্ষা ছাড়া অনেক স্থানে হেঁটে পার হওয়াও সম্ভব। নদীর মাঝখানে পলি জমে প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
জানা যায়, মাথাভাঙ্গা নদী জেলার অন্যান্য নদীর সঙ্গে সংযুক্ত এবং এটি একটি আন্তসীমান্ত নদী, যা ভারতের মুর্শিদাবাদ হয়ে চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও কুষ্টিয়া জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। নদীটির মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ১৩৫ কিলোমিটার, যার প্রায় ৭৫ কিলোমিটার অংশ চুয়াডাঙ্গা জেলায় অবস্থিত। এক সময় এই নদী দিয়ে ছোট বড় নৌযান চলাচল করলেও এখন নৌকা চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। নদী ভরাট ও পানির স্বল্পতার কারণে কৃষি সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, ফলে ফসল উৎপাদন কমে যাচ্ছে। নদীর পানির মান দূষিত হওয়ায় তা কৃষি কাজেও অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। হাটবোয়ালিয়া গ্রামের বাসিন্দা মুর্শিদ কলিন বলেন, আগে নদীর পানি পান ও রান্নার কাজে ব্যবহার করা হতো। এখন পানি দূষিত হওয়ায় কৃষি কাজেও ব্যবহার করা যায় না। অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ ও নদীতে বর্জ্য ফেলা বন্ধ করতে হবে। দ্রুত নদী খনন জরুরি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পৌর এলাকার ড্রেনেজ লাইনের সঙ্গে নদীর সংযোগ থাকায় প্রতিনিয়ত দূষিত পানি নদীতে পড়ছে। পাশাপাশি বাজার, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং পশুহাটের বর্জ্য নিয়মিত নদীতে ফেলা হচ্ছে। নদীর তীরে বিভিন্ন স্থানে ময়লার স্তূপ জমে আছে। নদীর দুই তীরের শত শত বিঘা জমি দখল করে বাগান, বসতবাড়ি ও স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। কৃষি জমিতে কীটনাশক ব্যবহারের ফলে রাসায়নিক দূষণ নদীর পানিতে মিশছে। এছাড়া বাঁশের বেড়া ও অস্থায়ী বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
হাটুভাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা সেলিম বাবু বলেন, ছোটবেলায় নদীতে গোসল করতাম। এখন দুর্গন্ধে নদীর কাছে যাওয়াও কঠিন। দেশীয় মাছ প্রায় বিলুপ্ত। নদীর করুণ অবস্থা দেখে কষ্ট হয়।
আরেক বাসিন্দা বলেন, নদী রক্ষায় দীর্ঘদিন আন্দোলন করা হলেও কার্যকর উদ্যোগের অভাবে পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। নদী দখলমুক্ত করা, বর্জ্য ফেলা বন্ধ এবং দ্রুত খননের মাধ্যমে নদীর প্রাণ ফিরিয়ে আনার দাবি জানান তারা।
স্থানীয়দের মতে, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে এই ঐতিহ্যবাহী নদী সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা পরিবেশ, কৃষি ও জনজীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।