তৌহিদ উদ দৌলা রেজা. মেহেরপুর
শহরের মেহেরপুর ক্লীনিকে সার্জারীর সময় নাছিমা নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ অজ্ঞান করার আগেই মৃত্যু হয়েছে রোগীটির। চিকিৎসকের অবহেলাকেই দায়ী করেছেন তারা। তবে চিকিৎসক বলছেন, অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার পরই ভীত হয়ে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে রোগীর মৃত্যু হয়েছে। ক্লীনিকে রোগী মৃত্যু ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মেহেরপুরের সাধারণ মানুষ।
জানাগেছে, গাড়াবাড়িয়া গ্রামের ৫৫ বছর বয়সী নাছিমা খাতুন জরায়ুর অস্ত্রপচারের জন্য সন্ধ্যায় শহরের মেহেরপুর ক্লীনিকে ভর্তি হন। রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারী) রাত সাড়ে ৯ টার সময় তাকে নেওয়া হয় অপারেশন থিয়েটারে। অস্ত্রপচারের জন্য ডাঃ মিজানুর রহমান ও তার ছেলে ডাঃ মুশফিকুর রহমান অভি প্রস্তুতি নেন। কিছুক্ষণ পর অসূস্থ্য হয়ে পড়েন রোগী নাছিমা। অপারেশন টেবিলেই তার মৃত্যু হয়। রোগীর মৃত্যু খবর ছড়িয়ে পড়লেই উত্তেজিত হয়ে পড়েন রোগীর স্বজনরা। মারধর শুরু করে দুই চিকিৎসককে। ভাংচুর করা হয় অপারেশন থিয়েটারের যন্ত্রাংশ ও ক্লীনিক। এতে গুরুতর আহত হন ঐ দুই চিকিৎসক। ঘটনার পরপরই পুলিশ ও সেনা সদস্যরা এসে উদ্ধার করেন ঐ দুই চিকিৎসককে। বর্তমানে তারা মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসকদের অবহেলার কারণেই রোগীর মৃত্যু হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে থানায় কোন অভিযোগ করতে নারাজ তারা। আর চিকিৎসকের দাবি, অবসের ইঞ্জেকশন পুশ করার আগেই ভীত হয়ে রোগীর হৃদযন্ত্রের ক্রীয়া বন্ধ হয়ে যায়। অনেক চেষ্টার পরও রোগীকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
এবিষয়ে ডাঃ মিজানুর রহমান বলেন, অপারেশন টেবিলে নেওয়ার পর হার্ট এ্যার্টাক করে রোগীর কনভারশন শুরু হয়। আমরা আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি। রোগীর চিকিৎসায় কোনো অবহেলা ছিল না।
জেলা বিএম’র সভাপতি ডাঃ আব্দুস সালাম বলেন, কোন রকম তদন্ত ছাড়ায় চিকিৎসকদের মারধর ও ভাংচুরের তীব্র নিন্দা জানায়। কোন চিকিৎসক ইচ্ছা করে রোগীকে মারে না।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল) মেহেদি হাসান দিপু বলছেন, রোগীর স্বজনদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।



