মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে প্রস্তুতি সভায় জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন

স্টাফ রিপোর্টার
চুয়াডাঙ্গায় যথাযোগ্য মর্যাদায় আগামী ২১শে ফেব্রুয়ারি ‘শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬’ উদযাপনের লক্ষ্যে এক প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার বেলা ১১টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন সভায় সভাপতিত্ব করেন।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক  (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশী সঞ্চালনায় সভায় জানানো হয়, সভায় মহান ভাষা শহীদদের স্মরণে দিনটি পালনে জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়নের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, পবিত্র মাহে রমজানের জন্য ২০শে ফেব্রুয়ারির ভাষার গান প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে ১৮ই ফেব্রুয়ারি। রমজান মাসে গান-বাজনা থেকে দূরে থাকতে হবে তাই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের কোন কর্মসূচিতেই গান-বাজনা রাখা যাবে না। তিনি আরও বলেন, শহীদ মিনারে ফুল দিতে যাওয়ার সময় সাধারনত পুষ্প অর্পন করার জন্য হুরাহুরি লেগে যায়। এটা যাতে না হয় সে বিষয়ে পুলিশ এবং কলেজের বিএনসিসি খেয়াল রাখবে। সিরিয়াল করে লিখে রাখা হবে এবং মাইকে এক এক করে ডাকা হবে । অহেতুক আমরা ওখানে ভিড় বা ধাক্কাধাক্কি করব না, আমাদের সিরিয়াল আসা পর্যন্ত আমরা অপেক্ষা করব। শ্রদ্ধা আগে দিলেও যা একটু পর দিলেও তাই, সম্মান তো কোমছে না। ঐদিন কবিতা আবৃতি, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, উপস্থিত বক্তৃতা, নাটিকা এগুলো প্রদর্শন করা যাবে। প্রতিটা স্কুলে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে হবে । এতে শিক্ষার্থীদের মেধার মানউন্নয়ন হবে।
  জেলা প্রশাসক আরো বলেন ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে এবং যথাযোগ্য ভাবগাম্ভীর্যের সাথে দিবসটি পালন করতে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হচ্ছে। তিনি সকল সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এই দিবসটি সফল করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠান শেষে ২১শে ফেব্রুয়রির দিনব্যাপীর কার্যবিবরনী পাঠ করে শোনান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশী। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার থেকেই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহীদ দিবস উপলক্ষে শহরের বিভিন্ন জায়গায় ফেস্টুন টাঙ্গানো হবে। ২০ তারিখ সকাল দশটায় শিশু একাডেমী প্রাঙ্গণে কবিতা আবৃত্তি ও চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। ২১শে ফেব্রুয়ারীর রাত ১২:০১ মিনিটে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। সূর্যোদয়ের সাথে সাথেই সকল সরকারি, বেসরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত ভবনে জাতীয় পতাকা অর্ধনর্মিত রাখতে হবে। সকাল ৯ টায় চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে কবিতা আবৃতি ও সংস্কৃতি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। ডিসি সাহিত্য মঞ্চে সকাল সাড়ে ১০টায় আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তীতে সুবিধা মত সময়ে শহীদদের প্রতি দোয়া, মোনাজাত ও প্রার্থনার মধ্যে দিয়ে একুশে ফেব্রুয়ারির কর্মসূচি শেষ হবে।
সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমান, সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া জিয়া উদ্দিন আহমেদ, চুয়াডাঙ্গা পৌর প্রশাসক শারমিন আক্তার, সহকারী কমিশনার এএসএম আব্দুর রউফ শিবলু, অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমান, সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগি অধ্যাপক ড. মুন্সি আবু সাইফ, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক দীপক কুমার সাহা, জেলা শিক্ষা অফিসার জেসমিন আরা খাতুন, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার অহীন্দ্র কুমার মন্ডল, পৌর ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক জেসমিন আরা রিক্তা, প্রেসক্লাব সভাপতি নাজমুল হক স্বপন ও সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম সনি, সাবেক সভাপতি রাজীব হাসান কচি, আজাদ মালিতা, সাংবাদিক সমিতির সভাপতি অ্যাড. রফিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক হুসাইন মালিক, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার প্রতিনিধি বিপুল আশরাফ, বিজিবির প্রতিনিধি সুবেদার মনমোহন সরকার, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবেছ উদ্দিন, ইসলামী ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক একেএম শাহীন কবির, কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মাসুদুজ্জামান, সদর হাসপাতালের আরএমও ডা. নাজমুস সাকিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক নাইম হোসেন, তথ্য অফিসার শিল্পী মন্ডল, দোকান মালিক সমিতির আহবায়ক মঞ্জুরুল আলম মালিক লার্জ , শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা আফসানা ফেরদৌসী এবং সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।