স্টাফ রিপোর্টার
একটি প্রযুক্তি-উন্নত, আধুনিক ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে গণিতচর্চা এবং যৌক্তিক বিশ্লেষণের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) উপাচার্য প্রফেসর ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। তিনি বলেন, ডিজিটালাইজেশন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বর্তমান যুগে গণিতের গুরুত্ব আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। গণিত কেবল একটি একাডেমিক বিষয় কিংবা ক্যালকুলাসের হাতিয়ার নয়; বরং এটি সব বিজ্ঞানের মৌলিক ভাষা ও জনক। একটি উন্নত সমাজ গঠনে শিক্ষার্থীদের মধ্যে গণিতের প্রতি গভীর ভালোবাসা তৈরি করা জরুরি। গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিকেট মাঠে গণিত বিভাগের আয়োজনে ১৭তম জাতীয় স্নাতক গণিত অলিম্পিয়াড ২০২৬ এর খুলনা আঞ্চলিক পর্বের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপাচার্য আরও বলেন, খুলনা অঞ্চলের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠান থেকে আগত শিক্ষার্থীদের এ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ নিঃসন্দেহে আনন্দের। এ ধরনের আয়োজনকে শুধু বিজয় অর্জনের মাধ্যম হিসেবে না দেখে নিজেদের বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা যাচাই, চিন্তার পরিধি সম্প্রসারণ এবং মেধার বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।
বাংলাদেশ গণিত সমিতি ও এ এফ মুজিবুর রহমান ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় খুলনা বিভাগের ১০টি জেলার বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ও সমমান পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।
গণিত বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মোহিতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন ও ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. ইদ্রিস আলী। আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) জাতীয় স্নাতক গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. মনিরুল আলম সরকার। এ ছাড়া বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আসাদুজ্জামান ও আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব, গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান।
আলোচনা শেষে একটি র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগে মূল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। ইংরেজি মাধ্যমে ১২০ মিনিটের এ পরীক্ষায় মোট আটটি গাণিতিক সমস্যা ছিল। প্রতিটি সমস্যার মান ছিল ১০ নম্বর করে, সর্বমোট নম্বর ৮০। পরীক্ষায় কোনো নেগেটিভ মার্কিং ছিল না। ক্যালকুলাস, অ্যালজেব্রা, লিনিয়ার অ্যালজেব্রা, সংখ্যাতত্ত্ব ও কম্বিনেটরিক্স থেকে প্রশ্ন প্রণয়ন করা হয়। বেলা ২টা ৩০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান অডিটোরিয়ামে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন উপাচার্য প্রফেসর ড. এ কে এম মতিনুর রহমান।
উল্লেখ্য, খুলনা অঞ্চলের আঞ্চলিক আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. আসাদুজ্জামান। এ আঞ্চলিক পর্বে বিজয়ী শিক্ষার্থীরা আগামী ৪ ডিসেম্বর ২০২৬ অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত পর্বে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। জাতীয় পর্যায়ের সেরা প্রতিযোগীদের মধ্য থেকে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা ২০২৭ সালের আন্তর্জাতিক গণিত প্রতিযোগিতা (ওগঈ)-এ বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাবেন।



