তিতুদহ প্রতিনিধি
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলাধীন গড়াইটুপি ইউনিয়নের সড়াবাড়ীয়ায় অসহায় এক বৃদ্ধ দম্পতির কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে তেঘরী যুব কাফেলা নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। বৃদ্ধ দম্পতির হাতে একটি কাঠের টঙ দোকান ও প্রয়োজনীয় মালামাল তুলে দিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে সংগঠনটি।
গতকাল শুক্রবার বিকাল ৪টার সময় সড়াবাড়ীয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দোকানটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নজরুল ইসলাম। তিনি ফিতা কেটে দোকানটির উদ্বোধন করেন।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার গড়াইটুপি ইউনিয়নের সড়াবাড়ীয়া মাধ্যমিক ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত ভবনের সামনে দীর্ঘদিন ধরে সামান্য কিছু মালামাল বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন পাশের বাজদিয়া গ্রামের বৃদ্ধ মুনতাজ হোসেন ও তাঁর স্ত্রী। সীমিত আয়ের ওপর নির্ভর করেই চলছিল তাঁদের সংসার। বয়সের ভারে ন্যুব্জ এই দম্পতির অসহায়ত্বের চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নজরে আসে তেঘরী যুব কাফেলা সংগঠনের সদস্যদের।
এরপর অসহায় দম্পতির পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেন সংগঠনের তরুণ সদস্যরা। তাঁদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সহযোগিতায় বৃদ্ধ দম্পতির জন্য একটি কাঠের টঙ দোকান নির্মাণ এবং দোকান পরিচালনার প্রয়োজনীয় মালামালের ব্যবস্থা করা হয়। এর মাধ্যমে তাঁদের নিয়মিত আয়ের একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে।
শুক্রবার বিকেলে সড়াবাড়ীয়া স্কুল প্রাঙ্গণে আয়োজিত দোকান উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দর্শনা থানার ওসি নজরুল ইসলাম। এ সময় তিনি তেঘরী যুব কাফেলার এমন মানবিক উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
বক্তব্যে ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা সামাজিক জীব। সমাজের প্রতি আমাদের অনেক দায়বদ্ধতা রয়েছে। মানুষ হিসেবে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সবার দায়িত্ব। আমাদের প্রত্যেকের উচিত নিজ নিজ অবস্থান থেকে এমন সুন্দর ও মানবিক কাজে অংশগ্রহণ করা। এমন একটি মহৎ উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পেরে তিনি নিজেকে ধন্য মনে করছেন। তেঘরী যুব কাফেলা সংগঠনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি এ ধরনের ভালো কাজের ক্ষেত্রে তাঁর সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অন্যদিকে, নতুন দোকান ও মালামাল পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বৃদ্ধ দম্পতি। তাঁরা বলেন, আমরা আজ খুবই খুশি। আমাদের সামান্য আয় দিয়েই সংসার চলে। এই তরুণেরা আমাদের জন্য যে ব্যবস্থা করেছে, তাতে আমরা অনেক উপকৃত হয়েছি। আমরা তাদের জন্য দোয়া করি, আল্লাহ যেন তাদের ভালো রাখেন, সুস্থ রাখেন।
অসহায় এই দম্পতির মুখে হাসি ফোটাতে পেরে আনন্দ প্রকাশ করেন সংগঠনের সদস্যরাও। তাঁদের এ উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে প্রশংসিত হয়েছে। সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষ এবং তরুণ সমাজ এগিয়ে এলে অসহায় মানুষের জীবনেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব—এমন বার্তাই দিয়েছে তেঘরী যুব কাফেলার এই মানবিক উদ্যোগ।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন তিতুদহ ক্যাম্পের ইনচার্জ অরূপ কুমার, সড়াবাড়ীয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ছিজার, হিজলগাড়ী প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ এবং তেঘরী যুব কাফেলার সদস্যরা।



