চুয়াডাঙ্গায় বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

স্টাফ রিপোর্টার
“সর্বজনীন বাসস্থান টেকসই নগরায়ণ” এ প্রতিপাদ্যকে ধারন করে চুয়াডাঙ্গায় বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উপলক্ষে সোমবার সকাল ১০ টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে এক শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের কোর্ট মোড় ঘুরে আবার একই স্থানে এসে শেষ হয়। পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসন ও গণপুর্ত বিভাগের আয়োজনে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক বিএম তারিকুজ্জামানের সঞ্চালনায় শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন গণপুর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহিনুর রহমান।
বক্তব্য রাখেন সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার নুরুল্লাহ, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী শাহীদুজ্জামান, ঠিকাদার বটুল হোসেন, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিপুল আশরাফ, জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিম প্রমুখ। বক্তরা বাংলাদেশের প্রত্যেকটা মানুষের একটি করে টেকসই নিরাপদ বাড়ি হোক এই প্রত্যাশা কামনা করেন।
প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, আমার বাসার যে অবস্থা, ৮৬ সালে তৈরি করা। আমার বেডরুমের মধ্যে দুইটা ছাদ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। যে কোন সময় ওটা খসে পড়তে যায়। তা এরকম একটা অবস্থার ভিতরে আমিই বসবাস করি, অন্যদের কথা আর কি বলবো। আমাদের একজন ঠিকাদার ভাই বলছিলেন যে, ২৪ সালের ৫ই আগস্টের পর থেকে তদারকি শুরু হয়েছে। তারমানে এখন একটু তদারকি হচ্ছে। আগে এত সুন্দর তদারকি হতো না যার ফলেই এরকম অবস্থা হয়ে আছে সব জায়গায়। একটা ভবন ৫ বছর আগে বানানো হয়েছিল, দেখলে মনে হয় ৫০ বছর অনায়েসে কেটে গেছে এর ভিতর দিয়ে।
অথচ আপনি ব্রিটিশ কোম্পানিতে যান, সেখানে বিল্ডিংগুলা কতদিন আগে বানিয়েছে? ১০০ বছরেরও বেশি হয়ে গেছে। ১৯৩৮ সালে কেরু এ্যান্ড কোম্পানির ভবন গুলো তৈরি সেগুলো বেশ টেকসই। আবার ভিক্টোরিয়া জুবিলি স্কুলের বিল্ডিং গুলোও বেশ টেকসই। তিনি আরোও বলেন, তারা তখন যদি পারত, আমরা কেন পারি না? তারা কি ইউজ করত, আমরা এখনো বিজ্ঞানের এত প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ঘটেছে, আমাদের কাছে সেই মেটেরিয়ালগুলা নাই। এরকম কিছু ছিল ব্রিটিশদের হাতে, যে তারা ওই কেমিক্যাল বা ওই উপাদানগুলা ইউজ করত, আমরা এখন সেই উপাদানগুলো ব্যবহার করতে পারি না। তারা কি সেই আমলে যারা ঠিকাদারি করে করেছে, তারা কি লস করে করে ঠিকাদারি করেছে?
সমস্যা হয়ে গেছে আমাদের নিজেদের চিন্তা ধারায়। সারাক্ষণ চিন্তা করি কত তাড়াতাড়ি বড়লোক হয়ে যাওয়া যায়। কত তাড়াতাড়ি ৬ তলা, ৮ তলা, ১০ তলা একটা করে বাড়ি বানানো যায়, গাড়ি করা যায়। আমাদের চিন্তাভাবনায় পচন ধরেছে। পচতে পচতে আমরা আজকে এই অবস্থায় এসে পৌঁছেছি। একটা ডিপার্টমেন্ট টেন্ডার করবে, কাজ হবে, সে তদারকি করবে, সেটাই হচ্ছে স্বাভাবিক। আর এখন তদারকি করতেই মনে হচ্ছে অস্বাভাবিক। এটা আমাদের কতটা দুঃখজনক একটা অবস্থার ভিতর দিয়ে বাংলাদেশটা গিয়েছে, তা কিন্তু স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।