জীবননগরে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসের আলোচনা সভা ঝরে পড়া শিক্ষার্থী ও সুবিধাবঞ্চিতদের শিক্ষার মূলধারায় ফেরানোর আহ্বান

জীবননগর অফিস
‘মানুষ, পৃথিবী এবং সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জীবননগরে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে শিক্ষা ও সাক্ষরতার গুরুত্ব তুলে ধরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে জীবননগর উপজেলা পরিষদের কনফারেন্স রুমে উপজেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের উদ্যোগে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমাইয়া সুলতানা এ্যানি। মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুল জব্বারের সঞ্চালনায় সভায় জীবননগর উপজেলার শিক্ষা পরিস্থিতি, সাক্ষরতার বর্তমান অবস্থা এবং সাক্ষরতার হার আরও বাড়াতে করণীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, সাক্ষরতা শুধু একজন মানুষের নাম লেখা বা পড়তে পারার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একজন মানুষকে দক্ষ, সচেতন, দায়িত্বশীল ও আত্মনির্ভরশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই সাক্ষরতার মূল উদ্দেশ্য। শিক্ষা মানুষের চিন্তাশক্তির বিকাশ ঘটায় এবং নিজের অধিকার, দায়িত্ব ও সামাজিক মূল্যবোধ সম্পর্কে সচেতন করে তোলে।
বক্তারা আরও বলেন, একটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর কোনো বিকল্প নেই। সমাজের প্রতিটি মানুষকে শিক্ষার আওতায় আনার পাশাপাশি বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া শিশুদের পুনরায় শিক্ষার মূলধারায় ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বয়স্ক ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে সাক্ষরতার প্রসারে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ আরও জোরদার করতে হবে।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ইসমাইল হোসেন, উপজেলা প্রাইমারি এডুকেশন ট্রেনিং সেন্টারের ইন্সপেক্টর সুভাষচন্দ্র ঘোষ, ইউএপিইও ফিরোজুল ইসলাম, ইউএপিইও শাহরিয়ার কবির, জীবননগর থানা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সানোয়ার হোসেন, সুবলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুরাইয়া বিলকিস, নারায়ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খালিদা পারভীন, পীচমোর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমান, সহকারী শিক্ষক মোমিন উদ্দিন, নুরজাহান খাতুন, নাসরিন আক্তারসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকারা।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষা বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা এ্যানি বলেন, একটি শিক্ষিত ও সচেতন জনগোষ্ঠীই পারে একটি উন্নত সমাজ ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গড়ে তুলতে। তাই সরকারের পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে শিক্ষার প্রসারে এগিয়ে আসতে হবে। বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত ও ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসের তাৎপর্য ও শিক্ষার গুরুত্ব সাধারণ মানুষের মধ্যে আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।