স্টাফ রিপোর্টার
‘সবাই মিলে খেলা করি, মাদক মুক্ত সমাজ গড়ি’ এ শ্লোগানকে ধারন করে চুয়াডাঙ্গা ভিক্টোরিয়া জুবিলি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১ টায় চুয়াডাঙ্গা ভিক্টোরিয়া জুবিলি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত ও গীতা পাঠ করা হয়।
এ উপলক্ষে আলোচনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার। সিনিয়র শিক্ষক শহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফ। বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা আইসিটি) এবিএম খালিদ হাসান সিদ্দিকী। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন জেলা শিক্ষা অফিসার আনিসুর রহমান, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হক স্বপন, সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম সনি প্রমুখ। এর আগে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জেসমিন আরা খাতুন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, শিশুদের সুস্থ মানসিক ও শারীরিক বিকাশে খেলাধুলা ও শারীরিক চর্চার কোনো বিকল্প নেই। তবে খেলাধুলার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায়ও মনোযোগী হতে হবে। তিনি নিজের স্কুলজীবনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, আমরা যখন স্কুলে পড়েছি, এক দিনও স্কুল মিস করিনি। আমাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা চলত কে আগে স্কুলে পৌঁছাতে পারবে। বর্তমান প্রজন্মের মধ্যেও সেই আগ্রহ দেখতে চাই।
অভিভাবকদের সতর্ক করে তিনি বলেন, সন্তান পরিণত বয়সে না পৌঁছানো পর্যন্ত তার হাতে মোবাইল ফোন তুলে দেয়া উচিত নয়। ছোট শিশুর কান্না থামাতেও মোবাইল দেয়ার প্রবণতা দেখা যায়, যা তাদের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। সন্তানকে সঠিকভাবে গড়ে তুলতে হলে অভিভাবকদের আগে সচেতন হতে হবে।
শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করে জেলা পরিষদের প্রশাসক বলেন, বিদ্যালয়ের খেলাধুলার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে দেয়া হবে। বল, ব্যাটসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রীর চাহিদা জানালে সেগুলোর ব্যবস্থা করা হবে।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, মাদকমুক্ত ও সুস্থ-সুন্দর সমাজ গঠনে খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিকল্প নেই। শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার পাশাপাশি নিয়মিত খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চায় মনোযোগী হতে হবে। তবে খেলাধুলার পাশাপাশি পড়াশোনাটাও ঠিক মত চালিয়ে যেতে হবে। অবশ্যই নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত হতে হবে। প্রতিবছর বার্ষিক ক্রীড়া ও সংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় পুরস্কার বিতরণের সময় সর্বোচ্চ উপস্থিত শিক্ষার্থীকে আগে পুরস্কার দেওয়া হবে। তবে ৮০ শতাংশ উপস্থিত না হলে সেই বাচ্চাকে বার্ষিক পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হবে না। অভিভাবকদের বলছি আপনার বাচ্চা কোথায় যায়, কার সাথে মেশে অবশ্যই খেয়াল রাখবেন। বাচ্চাদের সুস্থ শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চা অনুসরণ করতে হবে। আমরা ইতোমধ্যে সুইমিং পুল ঠিক করেছি। তোমরা বাচ্চারা খেলাধুলার পাশাপাশি প্রতিদিন এখানে সাঁতার শিখতে পারবে।
অনুষ্ঠান শেষে ৮টি ইভেন্টে প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ। অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
চুয়াডাঙ্গা ভিজে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণকালে শরীফুজ্জামান শরীফ



