জীবননগরে ভয়-ভীতি দেখিয়ে সম্পর্কের অভিযোগ, ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ

জীবননগর অফিস
জীবননগরে এক গৃহবধূকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন এবং পরবর্তীতে ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় এক যুবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে অন্তঃসত্ত্বা ওই নারীকে নির্যাতন করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে যুবকের পরিবারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অনাগত সন্তানের পিতৃপরিচয় নিশ্চিতসহ ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন ওই নারীর বাবা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জীবননগর উপজেলার খয়েরহুদা গ্রামের আব্দুল কুদ্দুসের মেয়ে কনা (২২) এর ২০২২ সালে বাঁকা ইউনিয়নের পাতিলা গ্রামের রবিউল ইসলামের ছেলে রাসেলের সঙ্গে বিয়ে হয়। বিয়ের পর প্রায় তিন বছর সংসার করার পর রাসেল সৌদি আরবে চলে যান।
কনার পরিবারের অভিযোগ, রাসেল সৌদি আরবে অবস্থানকালে তার আপন চাচাতো ভাই একই গ্রামের রহিমের ছেলে রোকন (২৫) কনাকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে এবং বিয়ের প্রলোভন দিয়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। পরবর্তীতে এ সম্পর্ক চলমান থাকায় একপর্যায়ে কনা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। বর্তমানে তিনি প্রায় ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এদিকে রোকনও প্রায় পাঁচ মাস আগে সৌদি আরবে চলে যান।
কনার বাবা আব্দুল কুদ্দুস জানান, মেয়ের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকের মাধ্যমে জানতে পারেন, তার মেয়ে প্রায় ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। বিষয়টি জানার পর তিনি ন্যায়বিচারের আশায় রোকনের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
পরিবারের দাবি, রোকন তার দায় স্বীকার করেন। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় কনাকে রোকনের বাড়িতে পাঠানো হয়। তবে সেখানে প্রায় ১৫ দিন থাকার পর রোকনের মা তার ওপর অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে তাকে বাড়ি থেকে চলে যেতে বাধ্য করেন বলে অভিযোগ করেন কনা।
কনার পরিবারের অভিযোগ, গত ২২ আগস্ট রাত আনুমানিক ১০টার দিকে রোকনের বাবা-মা তাকে মারধর করতে করতে জীবননগরে রেখে চলে যান। পরে অসহায় অবস্থায় কনা তার মা-বাবাকে ফোন করলে তারা ঘটনাস্থলে এসে তাকে বাড়িতে নিয়ে যান।
কনার বাবা আব্দুল কুদ্দুস বলেন, আমি একজন অসহায় মানুষ। আমার মেয়েকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে তার সঙ্গে সম্পর্ক করা হয়েছে। বর্তমানে সে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই। একই সঙ্গে আমার মেয়ের গর্ভের সন্তানের পিতৃপরিচয় নিশ্চিত করতে চাই।
এ ঘটনায় কনার পরিবারের পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত রোকন ও তার পরিবারের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা ও অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।