স্টাফ রিপোর্টার
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় মাদক, চাঁদাবাজি, বাল্যবিয়ে, ইভটিজিং ও অনলাইন জুয়াসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জনপ্রতিনিধিদের আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। গতকাল সোমবার সকাল ১০টায় চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তিথি মিত্রের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল।
সভায় জানানো হয়, গত জুন মাসে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় মাদক আইনে ২১টি, অপহরণের একটি, নারী ও শিশু নির্যাতনের তিনটি, চুরির সাতটি, বিস্ফোরক আইনে একটি এবং অন্যান্য আইনে ১০টিসহ মোট ৪৩টি মামলা হয়েছে। এছাড়া সদর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের গ্রাম আদালতে জুন মাসে আগের আটটি মামলাসহ মোট ৩১টি মামলা ছিল। এর মধ্যে ২৩টি নতুন মামলা দায়ের হয়। গ্রাম আদালতের মাধ্যমে ২৮টি মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে। সভায় শহরে সাম্প্রতিক সময়ে চুরি ও চাঁদাবাজি বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বিশেষ করে বিদ্যুতের তার, টিউবওয়েলের মাথাসহ বিভিন্ন চুরি যাওয়া সামগ্রী ভাঙারি দোকানে বিক্রি হওয়ার বিষয়টি আলোচনায় আসে। শহরের ভেতরে যেসব ভাঙারি ব্যবসায়ী এসব সামগ্রী কেনাবেচা করেন, তাদের কঠোরভাবে নির্দেশনা দেয়ার কথা বলা হয়। চুরি করা মালামাল কোনোভাবেই যাতে ভাঙারি ব্যবসায়ীরা কিনতে না পারেন, সে বিষয়ে নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, চুরির সঙ্গে জড়িত অনেকেই মাদক সেবনের সঙ্গে যুক্ত। ফলে মাদক নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি চুরি প্রতিরোধেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিশেষভাবে তৎপর হতে হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল বলেন, সমাজে সংঘটিত অধিকাংশ গুরুতর অপরাধের পেছনে কোনো না কোনোভাবে মাদকের সম্পৃক্ততা রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে মাদক মামলার বিষয়ে আইনজীবী ও বিচারকদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আমাদের সকলের চাওয়া যেকোনো মূল্যে সমাজ থেকে মাদক, অনলাইন জুয়া, চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধ সমূলে উৎপাটন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে বর্তমানে শুরু হওয়া সামারি ট্রায়ালকে ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি ধারাবাহিকভাবে চালু থাকলে সমাজে অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে।
সাম্প্রতিক সময়ে দর্শনার আকুন্দবাড়িয়ায় স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে মাদক কারবারিদের সংঘর্ষের প্রসঙ্গ তুলে ধরে সংসদ সদস্য বলেন, এ ধরনের ঘটনা শুরুতেই নির্মূলের দিকে যেতে হবে। মাদক কারবারিরা যাতে কোনোভাবেই মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। হিজলগাড়ী বাজারে চরমপন্থি সংগঠনের নামে চিঠি দিয়ে চাঁদা দাবির ঘটনাকেও উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। কোনোভাবেই যাতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের শাখা-প্রশাখা বিস্তার লাভ করতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
চাঁদাবাজির বিষয়ে সংসদ সদস্য বলেন, জেলায় সম্প্রতি চাঁদাবাজির কিছু ঘটনা ঘটছে। কোনো ঘটনা ঘটলে পুলিশ প্রশাসনকে তাৎক্ষণিকভাবে গুরুত্ব দিয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে। কোনো রাজনৈতিক দল মাদক কারবারি, অনলাইন জুয়াড়ি বা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেবে না। কেউ দলের নাম ব্যবহার করে অপরাধে জড়ানোর চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। নাগরিকের জীবন ও সম্পদ রক্ষা করা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন ও দায়িত্বশীল হলে সমাজ থেকে অপরাধ কমিয়ে আনা সম্ভব। আর অপরাধ কমলে সাধারণ মানুষ নিরাপদে বসবাস করতে পারবেন।
অনলাইন জুয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মাসুদ পারভেজ রাসেল বলেন, শিক্ষার্থীদের অনেকে অনলাইন জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়ছে। অভিভাবকদের সন্তানদের মোবাইল ব্যবহারের বিষয়ে নজরদারি করার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের মাদক, বাল্যবিয়ে, অনলাইন জুয়া, কিশোর গ্যাং ও অন্যান্য সামাজিক অবক্ষয়ের ক্ষতিকর দিকগুলো শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরার পরামর্শ দেন।
সভায় আরোও উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুহাম্মদ আসিফ হায়দার, সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সিদ্দিকুর রহমান, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হক স্বপন, সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনিসুর রহমান, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম নজু, পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি, পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি মোস্তফা কামালসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি ও আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সদস্যরা।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় মাসুদ পারভেজ রাসেল এমপি



