দর্শনায় এসএসসি ফলে কোথাও উচ্ছ্বাস, কোথাও হতাশা কেরুতে জিপিএ-৫-এর ছড়াছড়ি, কয়েক প্রতিষ্ঠানে ফল বিপর্যয়

দর্শনা অফিস
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে। গতকাল সোমবার  সকালে প্রকাশিত ফলাফলে দর্শনা এলাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাফল্য ও ব্যর্থতার মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। কোথাও জিপিএ-৫ পাওয়ায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে, আবার কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে অকৃতকার্যের সংখ্যা বেশি হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, দর্শনা এলাকার প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালো ফলাফল করেছে কেরু উচ্চ বিদ্যালয়। এ প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ১৪৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে একজন অনুপস্থিত ছিল। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৪২ জনের মধ্যে ১৩৮ জন কৃতকার্য এবং ৪ জন অকৃতকার্য হয়েছে। পাশের হার ৯৮ দশমিক ৫ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে ৩১ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। কেরু উচ্চ বিদ্যালয়ের এমন ফলাফলে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে।
দর্শনা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকেও এবার ভালো ফলাফল এসেছে। মোট ৭০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫৫ জন কৃতকার্য এবং ১৫ জন অকৃতকার্য হয়েছে। পাশের হার ৭৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ২ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। বিভাগভিত্তিক ফলাফলে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ১২ জনের মধ্যে ১০ জন, মানবিক বিভাগে ৩৪ জনের মধ্যে ২৫ জন এবং বিজ্ঞান বিভাগে ২৪ জনের মধ্যে ২০ জন শিক্ষার্থী কৃতকার্য হয়েছে।
মেমনগর বি. ডি. মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মোট ১৫৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৭৬ জন কৃতকার্য এবং ৮৩ জন অকৃতকার্য হয়েছে। পাশের হার ৪৭ দশমিক ৮০ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়নি। বিভাগভিত্তিক ফলাফলে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ২৬ জন, মানবিক বিভাগে ৩৫ জন এবং বিজ্ঞান বিভাগে ১৫ জন শিক্ষার্থী কৃতকার্য হয়েছে।
আল-হেরা ইসলামী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মোট ৪৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৬ জন কৃতকার্য এবং ১৮ জন অকৃতকার্য হয়েছে। পাশের হার ৫৯ দশমিক ০৯ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকেও কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেনি। বিভাগভিত্তিক ফলাফলে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ২ জন, মানবিক বিভাগে ১৯ জন এবং বিজ্ঞান বিভাগে ৫ জন শিক্ষার্থী কৃতকার্য হয়েছে।
দক্ষিণ চাঁদপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মোট ৭৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৮ জন কৃতকার্য এবং ৪৭ জন অকৃতকার্য হয়েছে। পাশের হার ৩৭ দশমিক ৩৩ শতাংশ। মানবিক বিভাগ থেকে ১ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। বিভাগভিত্তিক ফলাফলে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৪ জন, মানবিক বিভাগে ১৭ জন এবং বিজ্ঞান বিভাগে ৭ জন শিক্ষার্থী কৃতকার্য হয়েছে।
অন্যদিকে, দর্শনা দারুচ্ছুন্নাত সিদ্দীকিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় দাখিল পরীক্ষায় মোট ৮০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৭৯ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়। একজন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। অংশগ্রহণকারী ৭৯ জনের মধ্যে ৩৭ জন কৃতকার্য এবং ৪২ জন অকৃতকার্য হয়েছে। পাশের হার ৪৬ দশমিক ৮৪ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেনি। বিভাগভিত্তিক ফলাফলে বিজ্ঞান বিভাগে ৩ জন এবং সাধারণ বিভাগে ৩৪ জন শিক্ষার্থী কৃতকার্য হয়েছে।
ফল প্রকাশের পর ভালো ফল করা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে আনন্দের আমেজ দেখা গেলেও যেসব প্রতিষ্ঠানে অকৃতকার্যের সংখ্যা বেশি, সেখানে ফলাফল নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিশেষ করে দক্ষিণ চাঁদপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মেমনগর বি. ডি. মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অকৃতকার্যের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।
শিক্ষক ও অভিভাবকরা বলছেন, একটি পরীক্ষার ফলাফল কোনো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে না। যারা ভালো ফল করেছে, তাদের এই সাফল্য ধরে রেখে সামনে আরও ভালো করার চেষ্টা করতে হবে। আর যারা এবার অকৃতকার্য হয়েছে, তাদের হতাশ না হয়ে নিজেদের দুর্বলতা চিহ্নিত করে নতুন করে প্রস্তুতি নিতে হবে।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।