পটের আঁশ ছাড়াতে ব্যস্ত সময় পার করছে জীবননগরের কৃষকেরা

তারিকুর রহমান, জীবননগর
জীবননগর উপজেলায় পুরোদমে চলছে পাট কাটা, জাগ দেওয়া ও আঁশ ছাড়ানোর কাজ। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে কৃষকদের এখন দিনভর ব্যস্ত সময় কাটছে পাট প্রক্রিয়াজাতকরণে। খাল-বিল ও জলাশয়গুলোতে সারিবদ্ধভাবে জাগ দেওয়া পাটের দৃশ্য জানিয়ে দিচ্ছে সোনালি আঁশের মৌসুমের ব্যস্ততা। উপজেলার খয়েরহুদা, মানিকপুর, আন্দুলবাড়ীয়া, উথলী, সীমান্ত ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় কৃষকেরা পরিবারের সদস্য ও শ্রমিকদের নিয়ে পাটের আঁশ ছাড়ানোর কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। কোথাও পাট জাগ দেওয়া হচ্ছে, আবার কোথাও আঁশ ধুয়ে শুকানোর জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষক খয়েরহুদা গ্রামের মাফুজুর রহমান মান্টুর  সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ বছর অনুকূল আবহাওয়া ও পর্যাপ্ত পানির কারণে পাটের ফলন ভালো হয়েছে। তবে শ্রমিক সংকট, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং বাজারে ন্যায্যমূল্য নিয়ে কৃষকদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ রয়েছে।
কৃষকদের দাবি, সরকার যদি পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করে এবং আধুনিক পদ্ধতিতে পাট প্রক্রিয়াজাতকরণের সুযোগ বাড়ায়, তাহলে জীবননগরে পাট চাষ আরও সম্প্রসারিত হবে এবং কৃষকরা বেশি লাভবান হবেন।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, পাট বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী অর্থকরী ফসল। সঠিক সময়ে পাট কাটা ও জাগ দিলে উন্নতমানের আঁশ পাওয়া যায়, যা বাজারে ভালো দামে বিক্রি হয়। এ লক্ষ্যে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
জীবননগরের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে দুলতে থাকা পাটক্ষেত এবং জলাশয়ে কৃষকদের নিরলস পরিশ্রমের দৃশ্য যেন আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে—বাংলার ঐতিহ্যবাহী সোনালি আঁশ এখনও গ্রামীণ অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভরসা।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।