স্টাফ রিপোর্টার
চুয়াডাঙ্গা শহরের প্রাণকেন্দ্র শহীদ হাসান চত্বর ও মাথাভাঙ্গা নতুন সেতু-সংলগ্ন সরকারি জায়গায় গড়ে ওঠা অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদে ফের অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসন ও পৌরসভা। অভিযানের সময় কয়েকজন ব্যবসায়ী দায়িত্বরত ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং পুনর্বাসনের দাবি জানান। পরে তারা পৌরসভার কাভার্ড ভ্যানে উঠে প্রতিবাদও জানান। গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার আশিস মোমতাজের নেতৃত্বে এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে জেলা প্রশাসন, পৌরসভা, সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অংশ নেন।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, শহীদ হাসান চত্বরের জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ ঘিরে আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সরকারি জায়গা দখল করে অস্থায়ী দোকান বসিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছিলো। স্মৃতিস্তম্ভের সৌন্দর্য রক্ষা, জনচলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করতে গত ৩ আগস্ট চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মৌখিকভাবে দোকান সরিয়ে নিতে বলে। এর পরদিন ৪ আগস্ট জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার আব্দুর রউফ শিবলুর নেতৃত্বে প্রথম দফায় উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হয়। তখন উপস্থিত ব্যবসায়ীদের নিজ নিজ দোকান ও মালামাল সরিয়ে নেয়ার জন্য সময় দেয়া হয়। যারা উপস্থিত ছিলেন না, তাদেরও নিজ দায়িত্বে দোকান সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল শুক্রবার পুনরায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় শহীদ হাসান চত্বরের জুলাই স্মৃতিস্তম্ভসংলগ্ন দোকানের পাশাপাশি মাথাভাঙ্গা নতুন সেতুর পাশের সরকারি জায়গা দখল করে পরিচালিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। এ সময় বড়বাজার সোনালী ব্যাংকের সামনে, মাথাভাঙ্গা সেতুর দুই পাশে এবং নিচের বাজার সড়কের পাশের চায়ের দোকান, ফলের দোকান ও বিভিন্ন ফাস্টফুডের দোকানসহ প্রায় অর্ধশতাধিক দোকান অপসারণ করা হয়।
অভিযান চলাকালে দায়িত্বরত ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে কয়েকজন ব্যবসায়ী পুনর্বাসনের দাবি তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তারা ওই এলাকায় ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। যদি সেখানে ব্যবসা করতে না দেয়া হয়, তবে বিকল্প স্থান নির্ধারণ করে দিতে হবে। কেউ কেউ প্রতিবাদের একপর্যায়ে পৌরসভার ট্রাকে উঠে নিজেদের অবস্থান জানান। কয়েকজন ব্যবসায়ী দায়িত্বরত ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন। এ সময় জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার আশিস মোমতাজ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের দাবি তুলে ধরার আহ্বান জানান।
কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, শহীদ হাসান চত্বরে বহু বছর ধরে তারা ব্যবসা করে আসছেন। যখনই কোনো সরকারি অনুষ্ঠান বা বিশেষ আয়োজন হয়েছে, তখন পৌরসভা মৌখিকভাবে দোকান সরিয়ে নিতে বলেছে। নিজ দায়িত্বে ওই সময় দোকান সরিয়ে নেয়া হয়। অনুষ্ঠান শেষে তারা আবার আগের জায়গায় ব্যবসা শুরু করা হয়। এবারও পৌরসভা কর্তৃপক্ষ একইভাবে অনুষ্ঠানের কথা বলে দোকান সরিয়ে নেয়ার কথা বলে। আমরা দোকান সরিয়ে নিলেও এখন আর বসতে দেয়া হচ্ছে না। তাদের দাবি, উচ্ছেদের আগে পৌরসভা বিকল্প জায়গা নির্ধারণ করে দিক, যাতে জীবিকা নির্বাহ অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়। কয়েকজন ব্যবসায়ী আরও দাবি করেন, নিচের বাজারের হাট-ইজারাদারদের কাছে তারা নিয়মিত খাজনাও দিয়ে আসছেন।
অভিযান পরিচালনাকারী জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার আশিস মোমতাজ বলেন, সরকারি জায়গা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারে না। শহীদ হাসান চত্বর ও জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ এলাকার সৌন্দর্য সংরক্ষণ, জনসাধারণের চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং সরকারি সম্পত্তি দখলমুক্ত করতেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। যারা অবৈধভাবে দোকান বসিয়েছেন, তাদের আগেই পর্যাপ্ত সময় দিয়ে সরিয়ে নিতে বলা হয়েছিল।
চুয়াডাঙ্গা বড়বাজারে জেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানপুনর্বাসনের দাবিতে ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ



