জনবল সংকটে কার্যকারিতা হারাচ্ছে দর্শনা কেরু হাসপাতাল চিকিৎসক-নার্স নিয়োগ ও দ্রুত সংস্কার করে পূর্ণাঙ্গ সেবা চালুর দাবি শ্রমিক-কর্মচারী ও এলাকাবাসীর

দর্শনা অফিস
দর্শনায় অবস্থিত কেরু অ্যান্ড কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেডের হাসপাতালটি দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকট ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা দিতে পারছে না। প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য কর্মী নিয়োগের পাশাপাশি হাসপাতালটির জরুরি সংস্কারের দাবি তুলেছেন চিনিকলের শ্রমিক-কর্মচারী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ১৯৩৮ সালে কেরু চিনিকলের শ্রমিক-কর্মচারীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠিত হয়। সময়ের পরিক্রমায় একসময়ের ব্যস্ত এই হাসপাতাল এখন সীমিত জনবল নিয়ে ২৪ ঘণ্টা জরুরি স্বাস্থ্যসেবা চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে এখানে একজন চুক্তিভিত্তিক এমবিবিএস চিকিৎসক, একজন মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট, একজন স্থায়ী নার্স, একজন চুক্তিভিত্তিক নার্স, একজন মিডওয়াইফ, একজন ওয়ার্ডবয়, একজন আয়া এবং পরিচ্ছন্নতা কর্মীসহ মোট নয়জন কর্মী দায়িত্ব পালন করছেন।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, দর্শনায় বেশ কয়েকটি বেসরকারি ক্লিনিক থাকলেও রাতের বেলায় জরুরি চিকিৎসাসেবা পাওয়া অনেক ক্ষেত্রে কঠিন হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকা কেরু হাসপাতালটি শুধু চিনিকলের শ্রমিক-কর্মচারীদের নয়, আশপাশের হাজারো মানুষের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত।
সংশ্লিষ্টরা জানান, অতীতে হাসপাতালটিতে ২০ শয্যার পাশাপাশি তিনজন চিকিৎসক, পর্যাপ্ত নার্স, মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট, ওয়ার্ডবয়, আয়া, মিডওয়াইফ, অ্যাম্বুলেন্স ও চালকসহ প্রায় ২৭ জন কর্মী দায়িত্ব পালন করতেন। সে সময় এখানে অস্ত্রোপচার, প্রসূতি মায়েদের ডেলিভারি এবং রোগীদের বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহের সুবিধাও ছিল।
বর্তমানে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার, ডেলিভারি কক্ষ, ওষুধ সংরক্ষণাগার, চার শয্যার ওয়ার্ড, চিকিৎসক ও মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্টের কক্ষ এবং অ্যাম্বুলেন্স গ্যারেজসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো বিদ্যমান থাকলেও জনবল সংকটের কারণে অধিকাংশ সুবিধা কার্যত ব্যবহার করা যাচ্ছে না।
কেরু শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়নের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ইসমাইল হোসেন বলেন, কেরু হাসপাতালটি বহু বছর ধরে শ্রমিক-কর্মচারীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম ভরসার জায়গা। হাসপাতালের হারানো সক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত সংস্কার, পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ এবং আগের মতো পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা চালু করা এখন সময়ের দাবি।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিলে হাসপাতালটি আবারও শ্রমিক-কর্মচারী ও সাধারণ মানুষের নির্ভরযোগ্য চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে পূর্ণ সক্ষমতায় সেবা দিতে পারবে।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।