চুয়াডাঙ্গা রেলগেটে দিনে ২০-২৫ বার গেট ব্যারিয়ার পড়ে থাকায় তীব্র যানজট, কাদা-পানিতে সয়লাব আন্ডারপাস

স্টাফ রিপোর্টার
রেলগেটে আটকে আছে ভারী ধাতব ব্যারিয়ার, আর পেছনে সারিবদ্ধ যানবাহনের দীর্ঘ লাইন। চুয়াডাঙ্গা শহরের ব্যস্ততম এলাকা রেলবাজার রেলগেটের নিত্যদিনের ছবি এটি। ট্রেন চলাচলের জন্য একবার গেট ফেলা হলে আর ওঠার নামটি থাকে না। ১৫ থেকে ২০ মিনিট ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় চালক ও যাত্রীদের। সামান্য এ পথটুকু পাড়ি দিতে হাজার হাজার  যানবাহনকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হয়। যন্ত্রণার এখানেই শেষ নয়। রেলগেট আটকে থাকলে জরুরি ভিত্তিতে পারাপারের জন্য নির্মিত হয় আন্ডারপাস। তবে এ আন্ডারপাসটি এখন স্থানীয়দের জন্য ‘আশীর্বাদ’ না হয়ে ‘অভিশাপ’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চলতি বর্ষায় আন্ডারপাসটি পঁচা কাদা ও পানিতে সয়লাব। চরম ভোগান্তির শিকার হয়ে ঝুঁকি নিয়েই হাঁটুপানি পেরিয়ে  ইজিবাইক ও মোটরসাইকেল চালকরা যাতায়াত করেন।
সরেজমিনে রেলবাজার রেলগেট এলাকা পরিদর্শন করে দেখা যায়, রেল বাজার এলাকাটি চুয়াডাঙ্গা শহরের অন্যতম অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ, ছোট-বড় শত শত যানবাহন এই পথ দিয়ে যাতায়াত করে। জেলার সঙ্গে বিভাগীয় ও রাজধানীর যোগাযোগের প্রধান সড়ক এটি। যে সড়ক দিয়ে প্রতিদিন দূরপাল্লাসহ স্থানীয় বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু সড়কের বুক চিরে চলে গেছে ঢাকা ও রাজশাহী রুটের রেল যোগাযোগ পথ। আন্তঃনগর, লোকাল ও মালগাড়ি মিলিয়ে দিনে অন্তত ২৫ থেকে ৩০ বার এই রেল লাইনের ব্যারিয়ার ফেলা হয়। একবার ব্যারিয়ার ফেলা হলেই দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয় যানবাহন চালক ও যাত্রীদের। আরোও দেখা যায়, দীর্ঘক্ষণ রেলগেট বন্ধ থাকার বিকল্প হিসেবে যাতায়াতের জন্য যে আন্ডারপাসটি নির্মাণ করা হয়েছিল, তা বছরের বেশিরভাগ সময়ই কাদা পানিতে নিন্মজিত থাকে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা অকার্যকর থাকায় আন্ডারপাসে জমে আছে হাঁটু সমান পঁচা কাদা ও ময়লা পানি। দুর্গন্ধ ও নোংরা পানির তোয়াক্কা না করেই বাধ্য হয়ে অনেক চালক আন্ডারপাস দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছেন। এতে প্রায়ই সিএনজি, অটো রিকশা ও মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ছে, ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
রেলবাজার রেলগেটের গেটম্যান রন্টু হোসেন জানান, খুলনার সঙ্গে ঢাকা, রাজশাহী এবং সৈয়দপুরের রেল যোগাযোগের রেললাইনটি চুয়াডাঙ্গার উপর দিয়ে গেছে। প্রতিদিন এই রেল লাইন দিয়ে ৭টি আন্তঃনগর এবং ৩টি লোকাল মেইল ট্রেন চলাচল করে। এ সকল যাত্রীবাহী ট্রেন এবং মালগাড়ি মিলিয়ে দিনে অন্তত ২৫ থেকে ৩০বার রেলগেটের ব্যারিয়ার ফেলা হয়। খুলনা থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনটি জয়রামপুর স্টেশনে পৌঁছালে রেল গেট ফেলে দেওয়া হয় এবং একইভাবে খুলনাগামী ট্রেনটি মুন্সিগঞ্জ স্টেশনে পৌঁছালেই চুয়াডাঙ্গায় এই রেল গেটটি ফেলে দেওয়া হয়।
স্থানীয় যানবাহন চালক ও যাত্রীদের অভিযোগ, দিনে বহুবার এই গেট ফেলা হয়। প্রতিবার ১৫ থেকে ২০ মিনিট ব্যারিয়ার ফেলে রাখার কারণে মুহূর্তের মধ্যেই দু’পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। অ্যাম্বুলেন্স, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, অফিসগামী মানুষ কিংবা সাধারণ পথচারী সবাইকে আটকে থাকতে হয় একই ফাঁদে। রেলগেটে দাঁড়িয়ে থাকা মোটরসাইকেল চালক জসীম উদ্দীন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ট্রেন আসার ১০-১৫ মিনিট আগেই গেট ফেলে দেওয়া হয়। ট্রেন চলে যাওয়ার পরও গেট উঠতে সময় লাগে। জরুরি কোনো কাজ থাকলে বা রোগী থাকলে আমাদের আর বাঁচা-মরার কোনো সুযোগ থাকে না। আমি চুয়াডাঙ্গাতেই একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি। দিনে একাধিকবার আমার এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে হয়। প্রতিবারই কোন না কোন ট্রেনের অপেক্ষায় এই রেলগেটে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। আমরা চরম ভোগান্তিতে আছি। জরুরী চলাচলের জন্য একটি আন্ডারপাস থাকলেও সেখানে পঁচা কাদা এবং পানিতে পরিপূর্ণ।   স্থানীয় বাসিন্দা ও যানবাহন চালকদের দাবি, রেল বাজার রেলগেটের সমস্যাটি এখন আর কেবল সময়ের অপচয় নয়, এটি এখন চুয়াডাঙ্গাবাসীর জন্য এক ভোগান্তির অনন্য নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই চরম ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে স্থানীয়রা ও যানবাহন চালকরা আন্ডারপাসের জমে থাকা পানি দ্রুত নিষ্কাশন এবং স্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা, ট্রেন আসার সময়সীমা সঠিকভাবে হিসাব করে ব্যারিয়ার ফেলার দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।