খন্দকার শাহ আলম মন্টু, আলমডাঙ্গা
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে আলমডাঙ্গা উপজেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। নির্বাচন কমিশনের সম্ভাব্য সময়সূচি অনুযায়ী আগামী অক্টোবর মাস থেকে ধাপে ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে রাজনৈতিক দল, কর্মী-সমর্থক এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ ও আলোচনা।
আলমডাঙ্গা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় যাঁদের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে, তাঁদের মধ্যে অন্যতম চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোমিন মালিতা। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, তরুণ নেতৃত্ব, জনসম্পৃক্ততা, সাহসী অবস্থান এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তিনি উপজেলার বিভিন্ন মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন।
মোমিন মালিতা আলমডাঙ্গা উপজেলার খাসকররা ইউনিয়নের তালুক কররা গ্রামের হাজী আহমেদ আলী মালিতার সন্তান। ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে নেতৃত্বের বিকাশ ঘটিয়ে তিনি বর্তমানে চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন, মানবিক সহায়তা এবং বিভিন্ন সাংগঠনিক কার্যক্রমে তাঁর অংশগ্রহণ রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মোমিন মালিতা দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করে আসছেন। অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সহযোগিতায় বিভিন্ন সময়ে ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিক উদ্যোগে অংশ নিয়েছেন। এছাড়া ক্রীড়া, শিক্ষা, সামাজিক সম্প্রীতি ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও তাঁকে সক্রিয়ভাবে দেখা যায় বলে অনেকেই মন্তব্য করেছেন।
ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোর দাবি, চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পেলে আলমডাঙ্গা উপজেলাকে একটি আধুনিক, সেবামুখী ও উন্নয়নবান্ধব উপজেলায় রূপান্তরের লক্ষ্যে কাজ করতে চান তিনি। প্রশাসনিক সেবার মানোন্নয়ন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ, গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, যুব উন্নয়ন এবং ডিজিটাল সেবার সম্প্রসারণকে তিনি অগ্রাধিকার দিতে চান। পাশাপাশি উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার মানুষের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করছেন বলে তাঁর ঘনিষ্ঠজনরা জানিয়েছেন।
মোমিন মালিতার অনুসারীদের ভাষ্য, তিনি রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের আস্থা অর্জন করতে চান। তাঁর বিশ্বাস, জনপ্রতিনিধির মূল দায়িত্ব হলো জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করা এবং সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধানে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে পাশে দাঁড়ানো।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির চেয়ারম্যান পদে একাধিক নেতা আলোচনায় থাকলেও তরুণ নেতৃত্ব হিসেবে মোমিন মালিতার নাম বেশ গুরুত্বের সঙ্গে উচ্চারিত হচ্ছে। দলীয় মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় সাংগঠনিক দক্ষতা, রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা, তৃণমূলে সক্রিয়তা এবং জনসম্পৃক্ততা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে তাঁদের অভিমত।
উল্লেখ্য, চুয়াডাঙ্গা জেলার চারটি উপজেলার মধ্যে আলমডাঙ্গা অন্যতম বৃহৎ উপজেলা। একটি পৌরসভা ও ১৫টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ উপজেলায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতোমধ্যে গণসংযোগ ও প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন। যদিও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এখনও চেয়ারম্যান পদে আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি, তবে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে কয়েকজন নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। তাঁদের মধ্যে জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোমিন মালিতার নাম রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।এদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে আলমডাঙ্গার রাজনৈতিক অঙ্গনে দিন দিন বাড়ছে উৎসাহ-উদ্দীপনা। শেষ পর্যন্ত দলীয় মনোনয়ন কার ভাগ্যে জোটে এবং নির্বাচনী মাঠে চূড়ান্ত সমীকরণ কী দাঁড়ায়, সেটিই এখন আলমডাঙ্গা বাসীর আগ্রহের অন্যতম বিষয়।
আলমডাঙ্গা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় জেলা ছাত্রদলের সম্পাদক মোমিন মালিতা



