দামুড়হুদায় বিএনপি-জামায়াত মুখমুখি উত্তেজনা পুলিশি হস্তক্ষেপে নিয়ন্ত্রণ

দামুড়হুদা অফিস
দামুড়হুদা উপজেলা মডেল মসজিদে আয়োজিত একটি কোরআন শিক্ষা প্রশিক্ষণ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। শনিবারের ঘটনার জের ধরে রবিবার বিকেলে উভয় পক্ষ পৃথক বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করলে মুখোমুখি অবস্থান সৃষ্টি হয়। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার দুপুরে দামুড়হুদা উপজেলা মডেল মসজিদের একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নারী বিভাগের উদ্যোগে শতাধিক নারীর অংশগ্রহণে কোরআন শিক্ষা প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এ সময় বিএনপির স্থানীয় কয়েকজন নেতা সেখানে উপস্থিত হয়ে কর্মসূচির বিষয়ে জানতে চান।
জামায়াত নেতারা দাবি করেন, এটি ছিল সম্পূর্ণ ধর্মীয় ও কোরআন শিক্ষা বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি। অন্যদিকে বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, সেখানে গোপনে রাজনৈতিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছিল।
একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। এ সময় দুটি মাইক্রোবাস দ্রুত স্থান ত্যাগ করলে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। তাদের দাবি, ওই গাড়িগুলোতে অস্ত্র থাকতে পারে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে এবং কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নারীদের নিরাপদে সেখান থেকে সরিয়ে দেয়।
ঘটনার প্রতিবাদে রোববার বিকেলে জামায়াতে ইসলামী দামুড়হুদা উপজেলা শাখা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও পৃথক বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। এ সময় এক জামায়াত কর্মী মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে জামায়াতের নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে মিছিল করেন। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাভলী ইয়াসমিন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহিন আলম এবং দামুড়হুদা মডেল থানার পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন।
পরে জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আজিজুর রহমান এবং উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আবেদ উদ দৌলা টিটন দলীয় নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান। অপরদিকে প্রশাসন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হাসান তনু ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মন্টু মিয়ার সঙ্গে কথা বলে উভয় পক্ষকে সরে যেতে অনুরোধ করে। প্রশাসনের মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষ ঘটনাস্থল ত্যাগ করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।