মহেশপুরে প্রকৌশলীকে ম্যানেজ করে নকশা জালিয়াতির অভিযোগ রাস্তা দখল করে ভবন নির্মাণের প্রমাণ মিললেও নেই কার্যকর ব্যবস্থা

ঝিনাইদহ অফিস
ঝিনাইদহের মহেশপুর পৌরসভায় ভুয়া তথ্য গোপন করে ভবন নির্মাণের নকশা অনুমোদন নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলীকে প্রভাবিত করে নকশা অনুমোদন নেওয়া হয়েছে। তদন্তে নকশা জালিয়াতির প্রাথমিক সত্যতা মিললেও রহস্যজনক কারণে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং ভবন নির্মাণে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী সোহেল রানার সহযোগিতার অভিযোগও উঠেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২১ সালে মহেশপুর পৌরসভার পশু হাসপাতালপাড়া এলাকায় সাহাবুদ্দিন মহুরি ও তাঁর স্ত্রীর কাছ থেকে ৪ দশমিক ৪৫ শতক জমি ক্রয় করেন রাজিয়া খাতুন। জমির দলিলে ৭ ফুট প্রশস্ত একটি রাস্তা সংরক্ষিত রাখার বিষয়টি উল্লেখ ছিল।
অভিযোগ রয়েছে, ওই তথ্য গোপন করে এবং পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী সোহেল রানাকে প্রভাবিত করে সাহাবুদ্দিন মহুরি ভবন নির্মাণের নকশা অনুমোদন নেন। পরে সংরক্ষিত ৭ ফুট রাস্তার মধ্যে প্রায় ৪ ফুট দখল করে ভবন নির্মাণ শুরু করেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী রাজিয়া খাতুন পৌরসভায় লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্তে নকশা জালিয়াতির তথ্য উঠে আসে। এরপর একাধিকবার অভিযোগ দেওয়া হলেও ভবন নির্মাণ বন্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বরং নির্বাহী প্রকৌশলী অনৈতিক সুবিধা নিয়ে নির্মাণকাজে সহযোগিতা করছেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।
রাজিয়া খাতুন বলেন, আমি বারবার পৌরসভায় অভিযোগ দিয়েছি, কিন্তু কোনো প্রতিকার পাইনি। কয়েক দফা সালিশে রাস্তার ওপর নির্মিত অংশ অপসারণের সিদ্ধান্ত হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। নির্বাহী প্রকৌশলী ঘুষ নিয়ে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও ভবন নির্মাণের সুযোগ করে দিয়েছেন।
রাস্তা দখল করে ভবন নির্মাণের বিষয়ে অভিযুক্ত সাহাবুদ্দিন মহুরিকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি। পরে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিযোগের বিষয়ে মহেশপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী সোহেল রানা বলেন, ওই কাজ হওয়ার কথা নয়। বিষয়টি আমরা দেখছি।
এ বিষয়ে মহেশপুর পৌরসভার প্রশাসক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ভবন নির্মাণের বিষয়টি নিয়ে এর আগে একটি সালিশি বৈঠক হয়েছে। ওই বৈঠকের সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে। যেহেতু ভবন নির্মাণ নিয়ে অভিযোগ রয়েছে, তাই আপাতত কোনো নির্মাণকাজ করার সুযোগ নেই। কাজ বন্ধের বিষয়টি আমি দেখছি।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।