স্টাফ রিপোর্টার
জুলাই গণহত্যার বিচার, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, সুশাসন ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী চুয়াডাঙ্গায় গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকেল সাড়ে ৫ টায় চুয়াডাঙ্গা টাউন ফুটবল মাঠে সমাবেশ শেষে বিশাল গণ মিছিল বের হয়। মিছিলটি চুয়াডাঙ্গা শহরের কবরী রোড, কলেজ রোড,কোর্ট মোড়, বড়বাজার শহীদ হাসান চত্বর প্রদক্ষিণ শেষে টাউন ফুটবল ময়দানে এসে শেষ হয়।
চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতে আমীর ও চুয়াডাঙ্গা -২ আসনের এমপি মো: রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে সমাবেশ পরিচালনা করেন জেলা সেক্রেটারী অ্যাডভোকেট মোঃ আসাদুজ্জামান।
এসময় সভাপতির বক্তব্যে রুহুল আমিন বলেন, বাংলাদেশের আপামর ছাত্র জনতা জুলাই আন্দোলন করেছিল। যে জুলাই ছিল খেটে খাওয়া মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য, যে জুলাই ছিল ছাত্র অধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য, যে জুলাই ছিল রাজনৈতিক সংস্কারের জন্য, দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য ছাত্র জনতার এই আন্দোলন হয়েছিলো। গত ১২ ফেব্রুয়ারি যে ভোট হয়েছিল তার মূল ভিত্তি ছিল এ জুলাই আন্দোলন। গণভোট এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য আমরা প্রথম থেকেই দাবী তুলে আসছি। বাংলাদেশের ৭২% জনগণ সেদিন জুলাই সনদের পক্ষে রায় দিয়েছিল। কিন্তু বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পাওয়ার পর জুলাই সনদ অস্বীকার করছে। বাংলাদেশের মানুষ সেদিনের সেই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের কথা কখনোই ভুলতে চায় না। কোন অবস্থাতেই জুলাই সনদ বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে মুছে যেতে পারে না। এই কারণেই আমরা সংসদের ভেতরে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছি এবং এখন সংসদের বাইরেও আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরোও বলেন, আমরা হঠাৎ কোন সুবিধা পাওয়ার জন্য রাজনীতিতে আসিনি। আমরা বাংলাদেশের জনসাধারণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য রাজনীতি করি। সুতরাং ন্যায় ইনসাফ যতদিন কায়েম না হবে, জুলাই সনদ যতদিন বাস্তবায়ন না হবে, যতদিন রাজনৈতিক সংস্কার না হবে ততদিন বাংলাদেশে ১১ দলীয় জোট সংসদে এবং বাইরে আন্দোলন অব্যাহত রাখবে ইনশাআল্লাহ।
চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল বলেন, দেশে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে জনগণের মতামতের প্রতিফলন ঘটাতে হবে। জনগণের দেওয়া রায়কে অস্বীকার করে কোন টেকসই রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব নয়। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের মৌলিক অধিকার, জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। এ দাবিতে দেশের মানুষ আজ ঐক্যবদ্ধ।
তিনি আরো বলেন, জুলাই আন্দোলনে দেশের খেটে খাওয়া মানুষ, ছাত্র-জনতা রক্ত দিয়েছে। জুলাই গণহত্যার বিচার না হওয়া জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হওয়া এ সকল রক্তের সাথে প্রতারণা। যতদিন না জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হবে ততদিন আমাদের দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
গনমিছিলে আরো বক্তব্য রাখেন জেলা নায়েবে আমীর মাওলানা আজিজুর রহমান। উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী মোঃ আব্দুল কাদের, খেলাফত মজলিসের জেলা সেক্রেটারি জুবায়ের খান, ইসলামি ছাত্র শিবিরের জেলা সভাপতি সাগর আহমেদ ও এনসিপির যুগ্ম সম্পাদক আলমগীর হোসেন, পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি মোস্তফা কামাল সহ ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা।
জুলাই গণহত্যার বিচার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে চুয়াডাঙ্গায় জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলের গণ মিছিল



