হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ খুলবে শুক্রবার: ট্রাম্প

আজকের চুয়াডাঙ্গা ডেক্স:

মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালি আগামী শুক্রবার থেকে পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তির মাধ্যমে সাম্প্রতিক সংঘাতের অবসান ঘটায় এই সিদ্ধান্ত সম্ভব হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছিল, যা বিশ্ব বাণিজ্যে বড় প্রভাব ফেলছিল।

ফ্রান্সে অনুষ্ঠিতব্য জি-৭ সম্মেলনের আগে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁনের সঙ্গে বৈঠকের সূচনালগ্নে ট্রাম্প এ কথা জানান। তিনি বলেন, প্রণালিটি ইতিমধ্যেই আংশিকভাবে খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে সেখানে সাগরে পাতা মাইন সরাতে এখনো অভিযান চলছে। তার ভাষায়, প্রণালিটি সম্পূর্ণ নিরাপদ করতে ‘হান্টিং’ বা অনুসন্ধান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

লন্ডন ও প্যারিস যৌথ নৌ-মিশনের প্রস্তাব দিলেও ট্রাম্প মনে করেন, প্রণালি চালু রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের খুব বেশি বাইরের সহায়তার প্রয়োজন হবে না। তিনি বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং খুব শিগগিরই স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল শুরু হবে।

ইরানের সঙ্গে হওয়া এই চুক্তিকে ট্রাম্প বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইরান আর পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না।’ এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দেবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ অভিযানের প্রথম দিনেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। এর পর থেকেই তেহরানে নতুন নেতৃত্ব গঠিত হয়। ট্রাম্প জানান, নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে। যদিও তিনি ঠিক কোন নেতাদের কথা বলেছেন তা স্পষ্ট করেননি। তবে ইঙ্গিত দেন যে, আগের কিছু নেতৃত্ব অপসারিত হওয়ার পর নতুন একটি ‘বুদ্ধিমান’ নেতৃত্বের সঙ্গে তাদের সমঝোতা হয়েছে এবং সেই সূত্রেই এই চুক্তি সম্ভব হয়েছে।

ট্রাম্প আরও বলেন, আমি মনে করি এখন মধ্যপ্রাচ্যে অনেক ভালো কিছু ঘটতে যাচ্ছে। এই চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য শুক্রবার একটি আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান হবে বলে জানানো হয়েছে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স উপস্থিত থাকবেন। তবে অনুষ্ঠানটি কোথায় হবে, তা এখনো নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহ রুট হিসেবে হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব অপরিসীম। এটির স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরে আসলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও পণ্য পরিবহনে স্থিতিশীলতা ফিরবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।