কার্পাসডাঙ্গায় আদম ব্যাপারী শহীদের খপ্পরে পড়ে সর্বস্বান্ত ৫ পরিবার : উল্টো মিথ্যা মামলায় বিপাকে ভুক্তভোগীরা, অতিষ্ট হয়ে জনতার গনপিটুনী

কার্পাসডাঙ্গা প্রতিনিধি


দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের কানাইডাঙ্গা গ্রামে আদম ব্যাপারী শহীদের প্রতারণার শিকার হয়ে ৫টি পরিবার এখন নিঃ¯^| ভালো কাজের প্রলোভন দেখিয়ে সৌদি আরব পাঠিয়ে কাজ দেওয়া তো দূরের কথা উল্টো সেখানে ১৪ দিন জেল খেটে দেশে ফিরতে হয়েছে ভুক্তভোগীদের| এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং ক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত দালালকে গণপিটুনি দিয়েছে|
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কানাইডাঙ্গা গ্রামের মুনসুর হালসোনার ছেলে শহীদ ও তার সৌদি প্রবাসী ছেলে মাহফুজ মিলে এলাকায় একটি শক্তিশালী দালাল চক্র গড়ে তুলেছে| তারা জগন্নাথপুর গ্রামের আনসারের ছেলে সাদ্দাম, কানাইডাঙ্গার খলিলের ছেলে রাশেদ, ফকির মোহাম্মদের ছেলে রমজান এবং সুবুলপুরের সাগরসহ মোট ৫ জনকে জন প্রতি ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে বছরখানেক আগে সৌদি আরব পাঠায়| তবে তাদের দেওয়া হয়েছিল মাত্র ৩ মাসের মেয়াদোত্তীর্ণ ভিসা| সৌদিতে যাওয়ার পর শহীদের ছেলে মাহফুজ তাদের কোনো কাজ দিতে ব্যর্থ হয়| ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর ˆবধ কাগজপত্র না থাকায় সৌদি পুলিশ তাদের আটক করে এবং ১৪ দিন জেল খাটার পর তারা দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হয়|
বাড়ি ফিরে রাশেদসহ অন্য ভুক্তভোগীরা বিষয়টি নিয়ে মিমাংসার জন্য শহীদের কাছে গেলে তিনি বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিয়ে কালক্ষেপণ করতে থাকেন| রাশেদ সৌদি যাওয়ার পূর্বে তার চাচা মান্নানের সাথে শহীদের সুসম্পর্ক ছিল| সেই সুবাদে কার্পাসডাঙ্গার শিশু নিলয় ফাউন্ডেশন থেকে লোন নেওয়ার সময় মান্নান তার নিজ নামীয় জনতা ব্যাংকের একটি ব্ল্যাঙ্ক চেক জামানত হিসেবে শহীদকে দিয়েছিলেন| সম্প্রতি বিরোধ শুরু হলে শহীদ কৌশলে ¯^াক্ষর জালিয়াতি করে ওই চেকটি এনজিও থেকে তুলে নেন এবং চুয়াডাঙ্গা বিজ্ঞ আদালতে মান্নানের নামে ১৫ লাখ টাকার চেক জালিয়াতির মামলা দেন| ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ না দিয়ে উল্টো রাশেদের পরিবারের বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির মিথ্যা মামলা দায়ের করেন|
শহীদের একের পর এক প্রতারণা ও মিথ্যা মামলায় অতিষ্ঠ হয়ে গতকাল শুক্রবার বেলা ১২টার দিকে স্থানীয় জনতা তাকে আটক করে গণপিটুনি দেয়| খবর পেয়ে কার্পাসডাঙ্গা পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই মামুন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন| স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন শহীদ এতগুলো যুবকের জীবন নষ্ট করেছে, তাদের জেল খাটিয়েছে এবং এখন উল্টো মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে| এমন পরিস্থিতিতে জনরোষ ˆতরি হওয়া ¯^াভাবিক| এ বিষয়ে শহীদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি| কার্পাসডাঙ্গা পুলিশ

কার্পাসডাঙ্গা পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই মামুন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে| এই ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে|

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।