স্টাফ রিপোর্টার
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের লক্ষে চুয়াডাঙ্গায় অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি)-র আওতায় খাল খনন প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় চুয়াডাঙ্গা সদরের মাখালডাঙ্গা মাঠে জিয়া খালে ৮০০ মিটার খাল খননের কার্যক্রমের সূচনা করা হয়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রকল্পের উদ্বোধন করেন চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক জনাব লুৎফুন নাহার। চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখার আয়োজনে পরিচালিত হচ্ছে।
খাল খননের উদ্বোধনকালে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী এবং তাঁর যে অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলি রয়েছে, তার মধ্যে খাল খনন হচ্ছে অন্যতম। এই খাল খনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে এটা ত্রাণ ও দুর্যোগ ইজিপিপি (ঊএচচ) প্রকল্পের আওতায় ৮০০ মিটার মাথালডাঙ্গা খাল খনন করা হচ্ছে। এটা শুধুমাত্র কৃষকই না, সাথে পুরো এলাকার জীববৈচিত্র্য রক্ষা থেকে শুরু করে ক্লাইমেটের যে প্রভাবটা, সেটাও কিন্তু অপরিসীম।
জেলা প্রশাসক আরোও বলেন, আপনারা জানেন যে, এই চুয়াডাঙ্গা হচ্ছে অত্যন্ত দাবদাহের একটি জায়গা। সেখানে পানির প্রবাহ যত বেশি হবে, এটা তাপমাত্রাও কিন্তু সহনশীল পর্যায়ে আসবে। সকল দিক থেকে এটা খুবই উপকারে লাগবে বলে আমি আশা করছি। এটা এলাকার যারা প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষক শ্রেণী রয়েছেন, তাদের যেমন আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়াটারের উপরে ডিপেন্ডেন্সি কমে যাবে, তারা এই খাল থেকে যে প্রবাহমান পানি রয়েছে সেটা দিয়ে সেচের কাজটা করাতে পারবে। সাথে সাথে আমরা যেটা প্ল্যান করছি যে খালের যে পাড়টা আমরা বাঁধব, এই পাড়ে আমরা গাছ লাগিয়ে দিব। যাতে আমরা বনায়নটাও একই সাথে করতে পারি। আর এই দুইটা কাজ যদি আমরা একসাথে করতে পারি, তাহলে আমাদের যে এই অত্যন্ত বেশি পরিমাণ তাপমাত্রা, এটাও মনে হয় আমরা সহনশীল পর্যায়ে নিয়ে আসতে পারবো।
এ সময় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, মাথালডাঙ্গা যে খালটি খনন করা হচ্ছে, এটা আমাদের কৃষকদের অনেক উপকারে আসবে। আপনারা জানেন, আমাদের এই এলাকাটা হচ্ছে কৃষিনির্ভর এলাকা। এখানে সেচের যে একটা সমস্যা ছিল, এই খালটি খনন করার ফলে সেই সেচের সমস্যাটা সমাধান হবে। এর পাশাপাশি আমাদের এই এলাকায় যে জলাবদ্ধতার সমস্যা ছিল, সেই জলাবদ্ধতাও কিন্তু এই খালের মাধ্যমে দূর হবে।
আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই যে, তিনি আমাদের এই অবহেলিত এলাকার কৃষকদের কথা চিন্তা করে এই ধরনের একটা মহতী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। আমাদের এই চুয়াডাঙ্গা জেলা বিশেষ করে আমাদের অনেকগুলো মাঠ এই খালের সাথে সম্পৃক্ত। এই খালটি খনন করার ফলে হাজার হাজার বিঘা জমির চাষাবাদ কিন্তু সহজতর হবে।
উদ্বোধনী আরো উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশী, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আমিনুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সফিকুল ইসলাম পিটু, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম নজু, সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান লিপটন, জেলা জাসাস এর সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিম, সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, জেলা ওলামা দলের আহবায়ক মওলানা আনোয়ার হোসেন, নবগঠিত মাখালডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নূর গনী সামদানী, সিনিয়র সহ-সভাপতি সাইদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক ছানোয়ার হোসেন, নবগঠিত মাখালডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ সাহা, শংকরচন্দ্র ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহিবুল আলম সুজন প্রমুখ।
মাখালডাঙ্গার জিয়া খালে ৮০০ মিটার খাল খনন কার্যক্রমের উদ্বোধনীতে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার পানির প্রবাহ যত বেশি হবে, তাপমাত্রা সহনশীল পর্যায়ে আসবে



