আলমডাঙ্গা অফিস
আলমডাঙ্গা উপজেলার কুমার নদের ওপর নির্মিত প্রায় ৫৭ লাখ টাকার সেতুটি ১০বছর পেরিয়ে গেলেও জনসাধারণের কোনো কাজে আসেনি। সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতুটি এখন পরিণত হয়েছে গরুর গোবর শুকানোর জায়গায়।
জানা গেছে, কালিদাসপুর ইউনিয়নের আসাননগর ও বকশিপুর গ্রামের সংযোগ স্থাপনের উদ্দেশ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আওতায় ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে ৬০ মিটার দৈর্ঘ্যের এ সেতুটি নির্মাণ করা হয়। ব্যয় হয় প্রায় ৫৬ লাখ ৮৯ হাজার টাকা। কিন্তু অবাক করার মতো বিষয় সেতুর দুই প্রান্তে আজও নির্মিত হয়নি সংযোগ সড়ক। ফলে কোটি টাকার কাছাকাছি ব্যয়ে নির্মিত এই অবকাঠামো পড়ে আছে সম্পূর্ণ অকার্যকর অবস্থায়।
আসাননগর গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা শিলু মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এটা শুধু একটা সেতু না, এটা তিনটি গ্রামের সংযোগস্থল। এই রাস্তা হলে ১০ গ্রামের মানুষ উপকৃত হতো, এমনকি কুষ্টিয়ার মানুষও এ পথে চলাচল করতে পারতো। অথচ এ সেতুটি মানুষের কোন কাজে আসনে না, গরু-ছাগলের চরানোর কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে!
বকশিপুর গ্রামের বাসিন্দা আশরাফুল বলেন, সংযোগ রাস্তাটি হয়ে গেলে আলমডাঙ্গার সাথে যোগাযোগ মাত্র ৫ মিনিটেই সম্ভব। আথচ এখন আমাদের আলমডাঙ্গা যেতে ২০মিনিট সময় লাগে।
এদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগ, পরিকল্পনার অভাব ও প্রশাসনিক উদাসীনতায় একটি সম্ভাবনাময় প্রকল্প আজ পরিণত হয়েছে জনদুর্ভোগে। দীর্ঘ ১০ বছরেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় মানুষের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। কালিদাসপুর ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুল হক মিকা বলেন, “বিষয়টি আগেও বহুবার জানানো হয়েছে। বরাদ্দ না থাকলে তো রাস্তা করা সম্ভব নয়।
আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার পান্না আকতার বলেন, সেতুটি সম্পর্কে আগে জানা ছিল না। সম্প্রতি বিষয়টি জেনেছি। দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য প্রকল্প নেওয়া হবে। তবে প্রশ্ন থেকেই যায় ১০ বছর ধরে একটি সরকারি সেতু অব্যবহৃত পড়ে থাকার দায় কে নেবে? স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে জনগণের টাকায় নির্মিত এই সেতুকে চলাচলের উপযোগী করা হোক নয়তো দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা হোক।
সংযোগ সড়কের অভাবে ১০ বছরেও চালু হচ্ছে না আলমডাঙ্গার কুমার নদের উপর নির্মিত সেতু এলাকাবাসির দূর্ভোগ চরমে



