আলমডাঙ্গার ফিলিং স্টেশনগুলোতে অনিয়মের অভিযোগ লাইনে দাঁড়িয়েও তেলা পাচ্ছে না সাধারণ মানুষ

আলমডাঙ্গা অফিস
আলমডাঙ্গা উপজেলায় অবস্থিত তিনটি ফিলিং স্টেশনকে কেন্দ্র করে জ্বালানি তেল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় মোটরসাইকেল চালক, কৃষকসহ ভুক্তভোগীদের অভিযোগ—ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও তারা কাঙ্ক্ষিত তেল পাচ্ছেন না, অথচ প্রভাবশালীরা সহজেই তেল সংগ্রহ করছেন।
অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষমাণ সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হলেও নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তি নিয়ম ভেঙে অতিরিক্ত তেল নিচ্ছেন। বিশেষ করে পাঁচ লিটার করে তেল দেওয়ার নিয়ম থাকলেও কিছু ক্ষেত্রে ড্রামভর্তি করে তেল নেওয়ার ঘটনাও ঘটছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের দাবি, ফুয়েল কার্ড ব্যবস্থা চালু করার পরও পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। বরং নিয়মবহির্ভূতভাবে তেল সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা বা দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি করছে।
এদিকে আলমডাঙ্গা হক ফিলিং স্টেশনে মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যেই তেল শেষ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরবর্তীতে উত্তরা ফিলিং স্টেশনে তেল বিক্রি শুরু হলে সেখানে প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হয়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ ক্রেতারা।
ভুক্তভোগী মোটরসাইকেল চালক ও কৃষকদের ভাষ্য, বর্তমান পরিস্থিতিতে শৃঙ্খলা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। তারা মনে করছেন, শুধুমাত্র পুলিশের উপস্থিতি যথেষ্ট নয়; পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ অত্যন্ত জরুরি।
স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে তেল বিতরণে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন তারা।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।