তৌহিদ উদ দৌলা রেজা, মেহেরপুর
আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ধানখোলা ইউনিয়নে অসহায় ও হতদরিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রকৃত সুবিধাভোগীদের পরিবর্তে একই ব্যক্তি একাধিক কার্ড ব্যবহার করে চাল উত্তোলন করছেন। এতে বঞ্চিত হচ্ছেন অনেক দরিদ্র ও অসহায় মানুষ।
জানা গেছে, গাংনী উপজেলার ধানখোলা ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডে মোট ৬ হাজার ৫৬৪ জন সুবিধাভোগীর মাঝে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় চাল বিতরণ করা হচ্ছে। তবে বিতরণ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিনে ধানখোলা ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে দেখা যায়, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী একজন সুবিধাভোগীর জন্য ১০ কেজি করে ভিজিএফের চাল বিতরণের কথা থাকলেও বাস্তবে একজন ব্যক্তি একাধিক কার্ড নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে চাল উত্তোলন করছেন। অনেক ক্ষেত্রে একই ব্যক্তি ৬ থেকে ৩৩টি পর্যন্ত কার্ড নিয়ে চাল নেওয়ার চেষ্টা করছেন বলেও দেখা যায়।
চাল উত্তোলন করতে আসা গাঁড়াডোব গ্রামের তমরেজ আলী জানান, তিনি ভ্যানচালক। বিভিন্ন ব্যক্তির ১৩টি কার্ড নিয়ে তিনি চাল নিতে এসেছেন। একই এলাকার চঞ্চল হোসেন বলেন, তিনি ২৩টি কার্ডের চাল নিতে এসেছেন। চেপার গ্রামের আওলাদ হোসেন ১৮টি এবং চিৎলা গ্রামের ফারুক ১৬টি কার্ড নিয়ে চাল উত্তোলনের জন্য উপস্থিত হন। অনেক সুবিধাভোগী নিজে উপস্থিত না হয়ে তাদের কার্ড অন্যের মাধ্যমে পাঠিয়েছেন। ফলে একজন ব্যক্তি একাধিক কার্ড নিয়ে চাল উত্তোলনের সুযোগ পাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে, বিতরণ করা অনেক কার্ডে সুবিধাভোগীদের নাম ও ঠিকানা উল্লেখ না থাকার অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা। এতে প্রকৃত সুবিধাভোগী শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
ধানখোলা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা মন্টুর ভাই গোলাম কিবরিয়া বলেন, ভিজিএফ চালের জন্য দেওয়া অধিকাংশ টোকেন কার্ডেই নাম বা ঠিকানা উল্লেখ নেই। এতে প্রকৃত সুবিধাভোগী শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
ইউনিয়ন পরিষদের হিসাব সহকারী আরিফুল ইসলাম বলেন, সকাল থেকে চাল বিতরণের সময় অনেক কার্ডেই ব্যক্তিদের নাম ও পরিচয় উল্লেখ ছিল না। তবে সাংবাদিকরা উপস্থিত হওয়ার পর ভোটার আইডি কার্ড দেখে সুবিধাভোগীদের নাম-ঠিকানা লিখে নেওয়া হচ্ছে।
ধানখোলা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা মন্টু বলেন, সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে ভোটার আইডি কার্ড নেওয়া হয়েছে। তবে ভিজিএফের জন্য বিতরণ করা কার্ডগুলোতে নাম ও ঠিকানা উল্লেখ না থাকার বিষয়টি তিনি স্বীকার করেন।
চাল বিতরণের ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের শিশু সুরক্ষাকর্মী শান্ত প্রান্ত বলেন, জনপ্রতিনিধিরাই ভিজিএফের টোকেন কার্ড বিতরণ করেছেন। তবে অনেক কার্ডেই নাম ও ঠিকানা লেখা হয়নি। একই ব্যক্তি একাধিক কার্ড নিয়ে চাল উত্তোলনের সুযোগ নিচ্ছেন বলেও তিনি দাবি করেন। পাশাপাশি অন্যের কার্ড নিয়ে একাধিক ব্যক্তি চাল উত্তোলন করছেন—এ বিষয়টির সত্যতাও তিনি স্বীকার করেন।
গাংনীতে ভিজিএফের চাল বিতরণে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ



