ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (ড্যাব) এর আয়োজনে চুয়াডাঙ্গায় ৪৮ তম বিসিএস চিকিৎসকদের সংবর্ধনা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

স্টাফ রিপোর্টার

ডক্টর এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব), চুয়াডাঙ্গা শাখার আয়োজনে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টায় চুয়াডাঙ্গা হোটেল শাহিদ প্যালেসের তৃতীয় তলায় ৪৮ তম বিসিএস (স্বাস্থ্য) চিকিৎসকদের সংবর্ধনা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ৪৮ তম বিসিএস চিকিৎসকদের সংবর্ধনা ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। উক্ত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ড্যাব এর ইফতার মাহফিল আয়োজক কমিটির ২৬ এর আহবায়ক ডাঃ মোঃ আবু হাসানুজ্জামান (দুপুর)। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জুনিয়র কনসার্টেন্ট এহসানুল হক তন্ময়ের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুজ্জামান শরীফ।

প্রধান অতিথির বক্তব্য শরিফুজ্জামান শরীফ বলেন, আজ আমরা যে বিষয়টি নিয়ে একত্রিত হয়েছি, তা নিঃসন্দেহে অত্যন্ত আনন্দের ও গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। আমাদের সকলেরই কামনা থাকা উচিত আমরা যেন ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে পারি। শুধুমাত্র কারও বিরোধিতা করা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। অতীতের কোনো ব্যক্তি বা কোনো ডাক্তারের আচরণের কারণে আজও সেই মনোভাব ধরে রাখা কিংবা তাকে কোণঠাসা করে রাখা কোনোভাবেই সমাধান নয়। বরং আমাদের উচিত সেই সংকীর্ণ মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার মাধ্যমে সামনে এগিয়ে যাওয়া।

তিনি আরোও বলেন, আপনারা নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় অতীতে যেসব প্রথা বা চর্চা চালু ছিল, বর্তমান সময়ে সেগুলো আগের মতো আর চলতে পারছে না। সমাজের মানুষ এখন অনেক সচেতন। তারা সবকিছু বুঝতে ও জানতে পারছে। তাই আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব আরও সততা, স্বচ্ছতা এবং দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করা। আমি আপনাদের সকলের প্রতি আহ্বান জানাতে চাই আপনারা বাংলাদেশের প্রায় ১৭ কোটি মানুষের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার মহান দায়িত্ব নিয়ে এই পেশায় এসেছেন। দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা অনেকাংশেই আপনাদের উপর নির্ভরশীল। আপনারাও কারও না কারও পরিবারের সন্তান, তাই মানুষের কষ্ট ও প্রয়োজন নিশ্চয়ই আপনারা অনুভব করতে পারেন।

এ সময় চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন হাদী জিয়াউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা সব সময় এমন একটি অনুষ্ঠানের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করি। বিশেষ করে যখন নবীন চিকিৎসকরা আমাদের মাঝে যোগ দেন, তখন আমাদের প্রত্যাশা ও আশাবাদ আরও বেড়ে যায়। আমরা বিশ্বাস করি, এই নবীন চিকিৎসকরাই আগামী দিনের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রকৃত সৈনিক এবং তারাই ভবিষ্যতে দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। আপনারা সবাই অবগত আছেন যে আজ একটি ঐতিহাসিক দিন। আজ গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ দিনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। নতুন যে চিকিৎসকরা আজ আমাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন, তাদের দায়িত্ব এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি। সরকার অত্যন্ত দ্রুততার সাথে তাদের ৪৮তম বিসিএসের মাধ্যমে নিয়োগ প্রদান করেছে এবং তাদের জন্য আলাদা নীতিমালাও প্রণয়ন করেছে। এটি প্রমাণ করে যে সরকার স্বাস্থ্যখাতকে শক্তিশালী করার বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ড্যাব) এর কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা ও খুলনা বিভাগীয় সভাপতি ডা. মোহাম্মদ রফিকুল হক বাবলু, ড্যাবের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ডা. মোঃ আবু সায়েম, কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব ডা. সাঈদ মেহবুব কুলকাদির, খুলনা বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. মো. রবিউল ইসলাম তুহিন, ইফতার মাহফিল কমিটির সদস্য সচিব ডা. ওয়ালিউর রহমান নয়ন, মাগুরা জেলার সিভিল সার্জন ডাক্তার শামীম কবীর, ডা. মার্টিন হীরক চৌধুরী, চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস, ডা. ওয়াহিদ মাহমুদ রবিন, ডা. আব্দুর রহমান, ডা. মিলনুরজ্জামান, চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম পিটু, চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি।

আরো উপস্থিত ছিলেন, ডা. আত্তাই রাব্বী, ডা. ফারাহ রাশেদ, ডা. মো. রুবায়েদ হাসান, ডা. প্রশান্ত কুমার ধর, ডা. মোছা: সুমী খাতুন, ডা. মো. সবুজ রানা, ডা. আশিক আহমেদ, ডা. মো. আসিফ হাসান (ডেন্টাল সার্জন), মোছা: তোহুরা খাতুন (সহকারী ডেন্টাল সার্জন), ডা. সাহানা ইয়াসমিন, ডা. মো. শামসুজ্জোহা, ডা. মো. শাহ আলম, ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান, ডা. মো. আলমগীর হোসেন, ডা. মো. এজাজ সিদ্দিক তন্ময়, ডা. মো. ইয়াসীন রাহাত শাকিব, ডা. মো. হাসিবুর রহমান, ডা. মো. তৌহিদুল ইসলাম, ডা. নাফিসা আনজুম হিমু, ডা. এফ. কে. সাইমুম সৈকত, ডা. ফারহানা ইয়াসমীন, ডা. তানিয়া আক্তার সাথী, ডা. রাফি আল ইমরান প্রমুখ।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।