স্টাফ রিপোর্টার
দামুড়হুদা কার্পাসডাঙ্গায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ও অবৈধভাবে ক্লিনিক পরিচালনার দায়ে লাইফ কেয়ার মেডিকেল সেন্টারকে সিলগালা করে দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একইসাথে দুই লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। গতকাল শনিবার দুপুরে কার্পাসডাঙ্গা বাজারে লাইফ কেয়ার মেডিকেল সেন্টারে অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শাহিন আলম।
অভিযান সূত্রে জানা গেছে, ওই হাসপাতালের চিকিৎসক পরিচয়দানকারী দম্পতি মামুন অর রশিদ শাওন ও স্নিগ্ধা খাতুন চিকিৎসক না হয়েও নিজেদের নামের আগে ডাক্তার পদবি ব্যবহার করে রোগী দেখতেন এবং প্রেসক্রিপশন প্যাড ব্যবহার করতেন। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে লাইফ কেয়ার জেনারেল হাসপাতালে অভিযান চালানো হয়। অভিযানচলাকারী সময়ে কৌশলে দম্পতি পালিয়ে যান।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, লাইফ কেয়ার মেডিকেল সেন্টার দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম করে ব্যবসা করে আসছে। যারা নার্সের দায়িত্ব পালন করেন তারা কেউই নিবন্ধিত নার্স নন। নার্সিং এর ওপর প্রশিক্ষণ না থাকলেও তারাই নানা ধরনের ইনজেকশন পুশ করেন রোগীর শরীরে। এছাড়াও পরীক্ষার জন্য স্যাম্পল সংগ্রহের জন্য যাকে রাখা হয়েছে তিনিও অনুমোদিত কেউ নন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো: শাহিন আলম বলেন, ‘অভিযানের সময় লাইফ কেয়ার মেডিকেল সেন্টার” কর্তৃপক্ষ তাদের কোনো লাইসেন্স দেখাতে পারেনি। এছাড়া অপারেশন ও পোস্ট অপারেটিভ ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে করা হয়নি। কর্তব্যরত নার্সও রেজিস্টার্ড নন। এছাড়া পরিবেশ ও বিভিন্ন চিকিৎসা সরাঞ্জামাদি এমনভাবে রাখা হয়েছে যা মানবদেহের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, উপজেলার সব জায়গায় নিয়মিত অভিযান চলবে এবং ত্রুটিযুক্ত, অনিয়ম ও অনুমোদনহীন সকল প্রকার ল্যাব, ক্লিনিক এবং বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মশিউর রহমান বলেন, মানহীন স্বাস্থ্যসেবা, মেয়াদ উত্তীর্ণ রিএজেন্ট দিয়ে প্যাথলজি পরিচালনা, নোংরাও অপরিচ্ছন্ন অপারেশন রুম এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিবন্ধন করা সনদ না থাকায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে লাইফ কেয়ার মেডিকেল সেন্টারকে সিলগালা করে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয় বলে জানান তিনি।
কার্পাসডাঙ্গায় মোবাইল কোর্টের অভিযানে লাইফ কেয়ার মেডিকেল সেন্টার সিলগালা, দুই লাখ টাকা জরিমানা



