মেহেরপুরের তেল পাম্পে জ্বালানী কিনতে ভিড় অতিরিক্ত তেল কিনে মজুদের হিড়িক

তৌহিদ উদ দৌলা রেজা, মেহেরপুর
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির অবনতির সাথে সাথে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম রুট হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার খবরে মেহেরপুরে জ্বালানি তেলের বাজারে শুরু হয়েছে অস্থিরতা। গতকাল বৃহষ্পতিবার কোন ঘোষনা ছাড়াই বাজারে তেল সংকটের আশংকায় স্থানীয় তেল পাম্প ও বাজারে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল মজুদের প্রতিযোগীতায় নেমেছে স্থানীয় জনগণ। এতে মোটরসাইকেল ব্যবহারকারী ও কৃষকদের মধ্যে অজানা আতঙ্ক বিরাজ করছে।
মেহেরপুর সদর, মুজিবনগর ও গাংনী উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকেই মোটরসাইকেল ও ট্রাক্টরের দীর্ঘ সারি। অনেকেই মোটরসাইকেলের ট্রাংক পূর্ণ করে নেওয়ার পর কন্টিনিয়ারেও তেল সংগ্রহ করতে দেখা গেছে। অভিযোগ উঠেছে এই সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও মজুদদার তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাড়তি দাম হাতিয়ে নিচ্ছেন। দুপুরে মুজিবনগর শহরে প্রবেশ পথের একটি পাম্পে তেল নিতে আসা জনৈক কৃষক বলেন, আমি চাষি মানুষ, মাঠে সেচ কাজের জন্য ডিজেল লাগে, ইসরাইল ও ইরানের যুদ্ধ শুরু হয়েছে তাই তেল সংকট হতে পারে শুনে তেল নিতে আসলাম। সামনে সেচ মৌসুম, তেল না পেলে চাষাবাদ বন্ধ হয়ে যাবে। তাই আগেভাগেই কিছু ডিজেল নিয়ে বাড়িতে রাখবো।
গাংনী উপজেলার সাহারবাটি গ্রামের জাহিরুল ইসলাম মোটরসাইকেলে একটি ১২ লিটার তেলের কন্টিনিয়ার নিয়ে এসেছেন তেল নিতে। মোটরসাইকেলে তেল নেওয়ার পর কন্টিনিয়ারে তেল নিলেন। জানতে চাইলে তিনি বলেন, বর্হিবিশ্বে যুদ্ধ হচ্ছে তেল আমদানী বন্ধ হতে পারে যে কোন সময় তাই কিছু তেল নিয়ে রাখছি। একই কথা জানালেন পাম্পে তেল নিতে আসা রুহুল আমীন, মহরম আলীসহ অনেকেই।
অপরদিকে, গ্রামের বাজারের বিভিন্ন দোকানে খুচরা পর্যায়ে বোতলে করে তেল বিক্রির দোকানগুলোতেও উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। পাড়া-মহল্লার মুদি দোকানেও এখন অবৈধভাবে ড্রামজাত করে তেল মজুদ করা হচ্ছে।
জ্বালানি তেলের এই অস্বাভাবিক চাহিদার বিষয়ে স্থানীয় এক ফিলিং স্টেশনের মালিক রেজানুর বিশ্বাস বলেন, সরবরাহ এখন পর্যন্ত স্বাভাবিক আছে। কিন্তু মানুষ আতঙ্কে অতিরিক্ত তেল কিনছে। আমরা সবাইকে বুঝিয়েও কাজ হচ্ছে না।
এ বিষয়ে মেহেরপুর জেলা প্রশাসক ড. সৈয়দ এনামুল কবির বলেন, জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুদ দেশে রয়েছে। অযথা আতঙ্কিত হয়ে মজুদ করার কোনো প্রয়োজন নেই। মজুদ করার কারনেই কৃত্তিম সংকট তৈরি হবে এবং এতে অসাধু ব্যাবসায়ীরা সুযোগ নিবে। অবৈধভাবে তেল মজুদ বা নির্ধারিত দামের বেশি রাখলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।