জীবননগর অফিস
জীবননগর উপজেলার হাসাদাহ বাজরে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে সংঘর্ষে জামায়াত কর্মী হাফিজুর রহমানের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঈন উদ্দীন ময়েনকে আসামি করার প্রতিবাদে জীবননগর প্রেসক্লাবে বিএনপি সংবাদ সম্মেলন করেছে। গতকাল বুধবার দুপুর ১২ টায় প্রেসক্লাব ভবনে বিএনপি এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। সংবাদ সম্মেলন থেকে নিরাপরাধ ব্যক্তিকে আসামী তালিকায় নাম অর্ন্তভুক্ত করায় তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। জীবননগর উপজেলা ও পৌর বিএনপিসহ অঙ্গসংগঠনের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জীবননগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন খান খোকন। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, জমি সংক্রান্ত ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিএনপি নেতাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে। সংঘর্ষের সময় মঈন উদ্দীন ময়েন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। তারপরকে আসামি করা হয়েছে।
আমরা খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পরের দিন সুটিয়া স্কুল মাঠে জসিম উদ্দীনের ছেলে মেহেদীকে মারধর করা হয়। ওই ঘটনার মীমাংসার জন্য গত শনিবার রাতে হাসাদাহ বাজারে দুই পক্ষের বসার কথা ছিল। তবে সন্ধ্যায় কথা-কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কি হয়। আমরা জানতে পেিেছ, পরে মেহেদীর বাড়িতে জামায়াত নেতা ইসরাইলের নেতৃত্বে হামলা হয়। পরে মেহেদীর পরিবারের লোকজন তাদের প্রতিহত করে। এসময় বেশ কয়েকজন আহত হন।
বিষয়টি জানতে পেরে জীবননগর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঈন উদ্দীন ময়েনসহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা প্রথমে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তাদেও দেখতে যান। পরে হাসাদাহে বিএনপির নেতা-কর্মীদের বাড়িতে হামলা হচ্ছে খবর পেয়ে তারা বেশ কয়েকজন হাসাদাহ ফাজিল মাদ্রাসার সামনে যান। তারা গিয়ে দেখতে পান জীবননগর থানার অফিসার ইনচেির্জর নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা হাসাদাহ ফাজিল মাদ্রাসা ও জামায়াতে ইসলামীর অফিসের মধ্য বরাবর অবস্থান নিয়েছে। পরে সহকারী পুলিশ সুপার (দামুড়হুদা সার্কেল) এসে জামায়াতের লোকজন হামলা করবেনা বলে আশ্বাস দিলে তারা ফিরে আসেন। এদিকে রাত ১২টায় মেহেদীর বাবা জসিম ও হাসাদাহ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম মাস্টার থানায় অভিযোগ দিতে আসলে তাদের ওপর জামায়াতের নেতা-কর্মীরা হামলা করেন। পরে জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা করান। তবে মব সৃষ্টি করে জামায়াতের নেতা-কর্মীরা তাকে আটক দেখাতে পুলিশকে বাধ্য করান।
এদিকে রাতে হাফিজুর রহমান ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলে জীবননগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। সেখানে প্রশাসনকে জামায়াতের দুই সংসদ সদস্য চাপ দিয়ে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঈন উদ্দীন ময়েনকে আসামি করান। সংঘর্ষের সময় উপস্থিত না থাকার সত্ত্বেও মামলায় আসামি করা ও আসামি করতে চাপ দেওয়ার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
উপজেলা বিএনপি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং অযথা হয়রানি বন্ধের দাবি জানিয়েছে। না হলো দলীয় ভাবে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জীবননগর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যান শাহজাহান আলী, জীবননগর পৌর বিএনপির সভাপতি শাহজাহান কবীর, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলতাফ পারভেজ, আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আজিম খান, সিমান্ত ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদর উদ্দিন বাদল, রায়পুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক স্বপন, বাঁকা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম মুন্সি, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, সারোয়ার হোসেন প্রমুখ।
জীবননগরে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষের ঘটনায় হত্যা মামলা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদ মঈনকে আসামি করার প্রতিবাদে বিএনপির সংবাদ সম্মেলন



