অনলাইন ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান হবে আগামীকাল। মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে সার্কভুক্ত দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান হবে আগামীকাল। মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে সার্কভুক্ত দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের। গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এসব তথ্য জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।
সাধারণত বঙ্গভবনের দরবার হলে মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হয়। তবে এবার এর ব্যতিক্রম হতে যাচ্ছে। প্রথমবারের মতো মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হচ্ছে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়। মঙ্গলবার বিকালে এ শপথ অনুষ্ঠান হবে। একই দিন সকালে শপথ নেবেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা।
শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেবেন দেশটির লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। গতকাল ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এছাড়া ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন জানিয়েছে, শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি।
অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ী আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘মঙ্গলবার দিন সকাল ১০টায় সংসদ সদস্যদের শপথ হচ্ছে। আমি ধারণা করছি যে এটা প্রধান নির্বাচন কমিশনার পড়াবেন। বিএনপি থেকে আমাদের জানানো হয়েছে ওনারা শপথের পরপরই সংসদীয় দলের প্রধান নির্বাচিত করবেন। হয়তো সাড়ে ১১টা-১২টার দিকে। বিকাল ৪টায় সাউথ প্লাজায় (সংসদের দক্ষিণ প্লাজা) শপথ অনুষ্ঠান হবে মন্ত্রিসভার। আমি এখন পর্যন্ত যতটুকু জানি রাষ্ট্রপতির করার (পড়ানোর) কথা।’
মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে কারা কারা আমন্ত্রিত এ বিষয়ে আসিফ নজরুল বলেন, ‘কনভেনশন অনুযায়ী যাদের আমন্ত্রণ করার কথা তাদেরই করা হবে। এটা কেবিনেট ডিভিশন দেখছে। আজকে শুনেছি যে এখন পর্যন্ত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সার্ক দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বলা হয়েছে। কোনো প্রধানমন্ত্রীর ব্যাপারে (আমন্ত্রণ জানানো) আমি কিছু জানি না।’
শপথ কেন দক্ষিণ প্লাজায় হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে আসিফ নজরুল বলেন, ‘দক্ষিণ প্লাজায় শপথের বিষয়ে বিএনপি অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছিল। আমার ধারণা যেহেতু আমাদের এ সংসদটা একটু ভিন্ন, মানে আমরা জুলাই ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ, গণ-অভ্যুত্থানে অনেক আত্মত্যাগ, অনেক প্রাণহানির বিনিময়ে এ সংসদটা পেয়েছি। আর তাছাড়া এ সংসদ প্রাঙ্গণে অনেকগুলো ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটেছে। জুলাই ঘোষণা, জুলাই সনদ এ দুটোকে ঘিরে যে অনুষ্ঠান সেটাও সংসদেই আয়োজন করা হয়েছিল। আমাদের প্রয়াত নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা হয়েছিল এটার পাশের জায়গাতে। সবার প্রিয় শহীদ ওসমান হাদির জানাজা হয়েছিল। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিভিন্ন ডকুমেন্টেশন প্রকাশের একটা জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছিল দক্ষিণ প্লাজা। হয়তো সবকিছু বিবেচনা করে ওনারা এমন অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন। আমরা সেটা অনুযায়ী আয়োজন করেছি।
গতকাল এক বিবৃতিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা ১৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারত সরকারের প্রতিনিধিত্ব করবেন। গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানটিতে স্পিকারের অংশগ্রহণ ভারত ও বাংলাদেশের জনগণের মধ্যকার গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের ওপর জোর দেয়, যা আমাদের দুই দেশকে আবদ্ধকারী গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি ভারতের অবিচল প্রতিশ্রুতিকে পুনরায় নিশ্চিত করে।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, অভিন্ন ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ প্রতিবেশী হিসেবে ভারত তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি নির্বাচিত সরকারের কাছে বাংলাদেশের উত্তরণকে স্বাগত জানায়।
এদিকে নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বরণ করতে প্রস্তুতি চলছে জাতীয় সংসদ ভবনে। গতকাল সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা এলাকায় ধোয়ামোছা আর রঙ করার কাজে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায় পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের।
শপথ অনুষ্ঠান উপলক্ষে সংসদ ভবন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করার কথা জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মুখপাত্র ও উপপুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমাদের যে নিরাপত্তা পরিকল্পনা সেটা যথাযথ থাকবে। এর বাইরে ট্রাফিক মুভমেন্টে কিছু রেস্ট্রিকশন থাকবে। আর সর্বোপরি অনুষ্ঠান ঘিরে আমাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। আশা করি সবকিছু সুশৃঙ্খলভাবে এবং সুচারু রূপে সম্পন্ন হবে।



