স্টাফ রিপোর্টার
“জাগো নব সৃষ্টির মহানন্দে” কবি কাজী নজরুল ইসলামের এই উক্তিটি সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের আয়োজনে ৭ দিনব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ-২০২৬’-এর উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল রবিবার বিকালে চুয়াডাঙ্গা জেলা শিল্পকলা একাডেমির মুক্তমঞ্চে শান্তির দূত কবুতর ও বেলুন উড়িয়ে বর্ণাঢ্য উৎসবের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার। আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে সপ্তাহব্যাপী নজরুল বর্ষের অনুষ্ঠান।
এ উপলক্ষে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুকুল কুমার মৈত্রের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, কবি কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা সাহিত্যের এক অনন্য নাম। বাংলা সাহিত্যে তার ছিল অসামান্য অবদান। বাংলাদেশ সরকার এবছরকে নজরুল বর্ষ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় চুয়াডাঙ্গায় সপ্তাহব্যাপী নজরুল উৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে একদিন বা এক বছরের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। আমরা নজরুলের জীবন থেকে শিখে আমাদের নিজেদের জীবনে এবং দেশের কল্যাণে প্রয়োগ করতে হবে। আমাদের প্রত্যেক দিনের কর্মকাঠামোর মধ্যে নজরুল আছে। নজরুল সাম্যের কবি, প্রেমের কবি, ইসলামের কবি। এই মাত্র পাঁচ মিনিটে নজরুলের সম্পর্কে বর্ণনা করা একেবারেই অসম্ভব। কবি কাজী নজরুল ইসলাম সমগ্র বাংলার বিস্তীর্ণ জুড়ে রয়েছেন।

এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ার বলেন, কবি কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি। তিনি দেশের জন্য অসংখ্য গান, কবিতা, উপন্যাস রচনা করেছেন। বাঙালি জাতি কখনো তার অবদান ভুলবে না। তিনি দ্রোহের কবি, তার কবিতায় অনুপ্রাণিত হয়ে শত শত বাঙালিরা মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। এ বছর নজরুলবর্ষ ঘোষিত হওয়ায় সারা দেশব্যাপী নজরুলকে নিয়ে বিভিন্ন রকমের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হচ্ছে। চুয়াডাঙ্গাতে ও সপ্তাহব্যাপী নজরুল উৎসব অনুষ্ঠিত হওয়ায় আমরা জেলাবাসীরা গর্বিত।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম পিটু, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগীয় প্রধান ড. মুন্সী আবু সাঈফ, জেলা জাসাসের সভাপতি শহিদুল ইসলাম বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিম, জেলা ছাত্রদলের সাধারন সম্পাদক মোমিন মালিতা, জেলা কালচারাল অফিসার সাইফুল হাসান মিলন প্রমুখ।
পরে সন্ধ্যা ৭টায় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উক্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নাচ, গান ও আবৃত্তি পরিবেশন করা হয়। জাসাস ও স্থানীয় নানা সংগঠনের শিল্পীরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেয় । এর আগে সকাল থেকে দিনব্যাপী জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও পেশাজীবিরা সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করেন। জাতীয় কবির আদর্শ ও সাহিত্যকর্ম নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে জেলা পরিষদের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ ও সাধারণ মানুষ।



