সকল দপ্তরের পোর্টাল হালনাগাদ না করা হলে শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে : জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় জেলা প্রশাসক

স্টাফ রিপোর্টার

চুয়াডাঙ্গায় জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ রবিবার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই সভার আয়োজন করে জেলা প্রশাসন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বি.এম তারিক উজ জামানের সঞ্চালনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার। সভার কার্যবিবরণী পাঠ করেন সহকারী কমিশনার ফাহাদ চৌধুরী।

এসময় জেলার সার্বিক সকল দপ্তরের কার্য়ক্রম ও উন্নয়ন গতিশীল করার জন্য আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় জানানো হয়, জেলার সড়কে যে সকল ঝুঁকিপূর্ণ গাছ রয়েছে তা কর্তন করে দ্রুত অপসারণ করা হবে। চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে আন্ডারপাসে জমে থাকা পানি অপসারণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জেলায় ১৮৪ ক্লিনিকের মধ্যে পরিবেশের ছাড়পত্র নেই ১৪০ ক্লিনিকের। ৫৬ টি প্রতিষ্ঠান পরিবেশ ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করেছে এবং ৪৪ টির অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
সভায় আরো জানানো হয়, বিভিন্ন খালের কচুরিপানা অপসারণ করে সেই কচুরিপানা দিয়ে জৈব সার তৈরি করার উদ্যোক্তা তৈরি করতে হবে।

পরে সভায় উপস্থিত সরকারি কর্মকর্তা বৃন্দদের মাঝে মুক্ত আলোচনা করা হয়।

এ সময় জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, অনেক দপ্তর এর কর্মকর্তাদেরকে ডি-নথির পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ডি-নথি হলো অনলাইনে ডকুমেন্ট পাঠানোর একটি মাধ্যম। এরপর থেকে কোন দপ্তরের আর হার্ডকপি নেওয়া হবে না। প্রত্যেকটি দপ্তরকেই ডি-নথির মাধ্যমে ডকুমেন্ট পাঠাতে হবে। প্রত্যেক বছর এরকম কাগজের পিছনে অনেক টাকা খরচ হয়ে যায়। তাই এই মাধ্যমে তথ্য আদান প্রদান করলে আশা করা যায় খরচ অনেকটা কমে আসবে।

তিনি আরো বলেন, জেলার সকল দপ্তরের পোর্টাল হালনাগাদ করতে হবে। যাতে যে কোন মানুষ ওয়েবসাইটে ঢুকেই সকল তথ্য হালনাগাদ অবস্থায় পায়। এতে কোন তথ্য পেতে মানুষকে আর হয়রানের শিকার হতে হয় না। পোর্টাল হালনাগাদ না করা হলে শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান জেলা প্রশাসক।

এ সময় স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক শারমিন আক্তার বলেন, জেলায় বর্তমানে ডেঙ্গুর উপদ্রব বেড়েছে। চুয়াডাঙ্গার পৌরসভার ড্রেনগুলো পরিষ্কার রাখা হচ্ছে যাতে করে ডেঙ্গুর উপদ্রব কম হয়। চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার ড্রেনেজ লাইন গুলো ঠিক করতে হবে এবং মশক নিধন কর্মসূচি পালন করতে হবে। বর্ষার মৌসুমে কোন আন্ডার কনস্ট্রাকশন বিল্ডিং এর পানি, ফুলের টব এবং ডাবের খোসায় জমে থাকা পানি অপসারণ করতে হবে।

তিনি আরোও বলেন, খুব দ্রুতই চুয়াডাঙ্গা জেলার স্বাস্থ্যসেবা উন্নত করতে হবে।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে প্রচুর পরিমাণে ময়লা আবর্জনা দেখতে পাওয়া যায়। খুবই দ্রুত সেটি অপসারণ এর ব্যবস্থা করতে হবে। সদর হাসপাতালে মাত্র একজন পরিচ্ছন্ন কর্মী কাজ করে এবং বেসরকারিভাবে চারজন কাজ করে বর্তমানে ৫৬ জন নতুন পরিচ্ছন্ন কর্মী নিয়োগ করার প্রক্রিয়া চলছে।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ার, দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাভলী ইয়াসমিন, জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা এ্যানি, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নুরুল ইসলাম, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক দীপক কুমার সাহা, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সাহাবুদ্দিন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান, পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নরেশ চন্দ্র বিশ্বাস, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম সনি, দৈনিক আজকের চুয়াডাঙ্গা পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক বিপুল আশরাফ সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।