জীবননগরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান, যশোর রিজিয়নের ২২২ পূজামণ্ডপে মোতায়েন থাকবে ২ হাজার বিজিবি সদস্য

জীবননগর অফিস
শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করতে যশোর রিজিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় ২২২টি পূজামণ্ডপে প্রায় ২ হাজার বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করা হবে। এ উপলক্ষে জেলার জীবননগর উপজেলার সিংনগর পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন বিজিবির দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়ন, যশোরের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান, পিবিজিএম, বিপিএম (সেবা), পিএসসি।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. রফিকুল আলমকে সঙ্গে নিয়ে তিনি পূজামণ্ডপটি পরিদর্শন করেন। এ সময় পূজামণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের হাতে ফলের ডালা ও নগদ অর্থসহায়তা তুলে দেন তিনি।
পরিদর্শন শেষে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব নির্বিঘ্নে উদযাপন নিশ্চিত করতে বিজিবি সদর দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী যশোর রিজিয়ন ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে বিজিবি দায়িত্ব পালন করবে। পূজা উপলক্ষে সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, মূল্যায়ন ও প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গত ১০ থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত যশোর রিজিয়নের বিজিবি ইউনিটগুলো তাদের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় রেকি সম্পন্ন করেছে। আগামী ১৬ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার বিজিবি সদস্য সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান আরও জানান, দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়নের আওতাধীন সীমান্তবর্তী ছয়টি জেলার ৩৭টি উপজেলার সীমান্তের আট কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত এলাকা এবং খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গা শহরের ২২২টি পূজামণ্ডপে বিজিবি মোতায়েন করা হবে। এসব পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় ৫৮টি বেইজ ক্যাম্প থেকে বিজিবি সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন। ছয়টি সীমান্তবর্তী জেলার প্রায় ৬০০ কিলোমিটার সীমান্ত সুরক্ষিত রাখার পাশাপাশি দুর্গাপূজার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সদস্যরা সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করবেন। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি সতর্ক ও তৎপর থাকবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ। শারদীয় দুর্গোৎসব যেন সম্পূর্ণ নিরাপদ, আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়, সে লক্ষ্যে বিজিবি সর্বোচ্চ পেশাদারত্বের সঙ্গে মাঠে থাকবে। এ জন্য তিনি সর্বস্তরের নাগরিক, পূজামণ্ডপ কর্তৃপক্ষ ও গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা কামনা করেন।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।