জীবননগর অফিস
জীবননগরে জমি বিক্রির ৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা নিয়ে বিরোধের অভিযোগ উঠেছে। টাকা উদ্ধারের দাবি ও নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন রোজিনা খাতুন নামে এক নারী এবং হাসান নামে এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। তাঁদের অভিযোগ, জমি রেজিস্ট্রির পর জামানত হিসেবে রাখা ৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা তিন ব্যক্তি কৌশলে নিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত তা ফেরত দেওয়া হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে রোজিনা খাতুন জানান, পারিবারিক আর্থিক সংকটের কারণে গত ১২ আগস্ট তিনি জীবননগরের কাশিপুর গ্রামের তাঁর স্বত্বদখলীয় জমি মো. মনির হোসেনের কাছে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন। জমিটির মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা। নিরাপত্তার স্বার্থে জমি রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হওয়ার আগ পর্যন্ত টাকা একজন বিশ্বস্ত ব্যক্তির কাছে জামানত রাখার সিদ্ধান্ত হয়।
রোজিনার দাবি, ক্রেতা মনির হোসেন ওই ৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা তাঁর চাচাতো ভাইয়ের শ্যালক মো. হাসানের কাছে জামানত হিসেবে জমা দেন। একই দিনে জমির রেজিস্ট্রিও সম্পন্ন হয়। পরে রেজিস্ট্রি শেষে হাসানের কাছে টাকা চাইতে গেলে তিনি জানান, মকসেদুর রহমান রিমন, কামরুল ইসলাম ও মো. আব্দুল হামিদ নামের তিন ব্যক্তি তাঁর কাছ থেকে পুরো টাকা নিয়ে গেছেন।
রোজিনা আরও অভিযোগ করেন, পরে তিনি ওই তিন ব্যক্তির কাছে টাকা ফেরত চাইতে গেলে তাঁকে ভয়ভীতি দেখানো হয় এবং তাঁর পাওনা হিসেবে মাত্র ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাঁকে প্রাণনাশ ও লাশ গুমের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অন্যদিকে সংবাদ সম্মেলনে মো. হাসান বলেন, তিনি একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং রোজিনার জমি বিক্রির টাকা আমানত হিসেবে তাঁর কাছে রাখা হয়েছিল। তাঁর দাবি, জমি রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হওয়ার পর ১২ আগস্ট বিকালে মকসেদুর রহমান রিমন, কামরুল ইসলাম ও আব্দুল হামিদ তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স হাসান স্টোরে’ গিয়ে জমির টাকা রোজিনাকে বুঝিয়ে দেওয়ার কথা বলে তাঁর কাছ থেকে ৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা নেন। তবে পরে তাঁরা ওই টাকা রোজিনাকে বুঝিয়ে না দিয়ে নিয়ে চলে যান বলে অভিযোগ হাসানের।
হাসান আরও দাবি করেন, পরবর্তীতে তিনি ওই তিন ব্যক্তির কাছে টাকা ফেরত চাইলেও তা পাননি। এ কারণে জমির বিক্রেতা রোজিনার কাছে টাকা বুঝিয়ে দিতে না পারায় তিনি নিজেও চরম মানসিক চাপ ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে রোজিনা খাতুন ও মো. হাসান অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে ৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে তাঁরা নিজেদের নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
তবে অভিযুক্ত মকসেদুর রহমান রিমন, কামরুল ইসলাম ও আব্দুল হামিদের বক্তব্য এ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে সংযোজন করা হবে।
জীবননগরে জমি বিক্রির প্রায় ৪ লাখ টাকা নিয়ে বিরোধ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন



