সাংবাদিকদের সহযোগিতায় কবিখালি গ্রামের ১০৫ বছরের বৃদ্ধ আব্দুল বারীর পাশে দাড়িয়েছে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা প্রশাসন

স্টাফ রিপোর্টার
সাংবাদিকদের সহযোগিতায় কবিখালি গ্রামের  ১০৫ বছরের বৃদ্ধ আব্দুল বারীর পাশে দাড়িয়েছে চুয়াডাঙ্গা সদর  উপজেলা প্রশাসন। গতকাল রবিবার দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলা প্রশাসনের ত্রাণ তহবিল থেকে শুকনা খাবার নিয়ে আব্দুল বারীর বাড়িতে হাজির হন  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র। এ সময় তিনি চাল,ডাল, তেলসহ খাবারের একটি প্যাকেট বৃদ্ধ আব্দুল বারীর হাতে তুলে দেন।
বয়সের ভারে নুয়ে পড়ার কথা। অথচ জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও জীবিকার তাগিদে সাইকেল চালিয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরে কড়াই-সাড়ার কাজ, কখনো জন খেটে জীবনধারণ করেন। কেউ না থাকায় নিজেই রান্না করে খান তিনি।  পরের জমিতে ঝুপড়ি ঘর তুলে একাই বসবাস করছেন তিনি ।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মোমিনপুর ইউনিয়নের কবিখালী মসজিদপাড়া এলাকার সড়কের পাশে একটি ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করেন আব্দুল বারী। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তার জন্ম ১৯২১ সালে। সে হিসেবে বর্তমানে তার বয়স ১০৫ বছর। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে আব্দুল বারীর অসহায় জীবনযাপনের ছবি ও ভিডিও। সেখানে তাকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের সহায়তার কথা বলা হলেও বাস্তবে কোনো অর্থ বা সহায়তা তার কাছে পৌঁছায়নি।
জানা গেছে, প্রায় সাত বছর আগে স্ত্রী মারা যাওয়ার পর থেকেই একাকী জীবন কাটাচ্ছেন আব্দুল বারী। তার দুই কন্যা থাকলেও তারা খোঁজখবর নেন না। গতকাল রবিবার সকালে আব্দুল বারীর অসহায় জীবনযাপনের খবর সংগ্রহ ও তার খোঁজ নিতে যান কয়েকজন সাংবাদিক।
সাংবাদিকরা তার দুরবস্থার বিষয়টি চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তিথি মিত্রকে অবহিত করেন। পরে  দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলা প্রশাসনের ত্রাণ তহবিল থেকে শুকনা খাবার নিয়ে আব্দুল বারীর বাড়িতে ছুটে যান সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র।  সঙ্গে ছিলেন সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নাহিদা ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।  এ সময় আব্দুল বারীর জন্য স্থায়ীভাবে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন ইউএনও।
তাৎক্ষণিক সহায়তা হিসেবে আব্দুল বারীর হাতে তুলে দেওয়া হয় ১০ কেজি চাল, ১ কেজি ডালসহ শুকনা খাবারের একটি ব্যাগ। খাবারের প্যাকেট  পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এই প্রবীণ।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র বলেন, আব্দুল বারী এনআইডি কার্ডে দেখেছি, তার জন্ম ১৯২১ সালে। সে হিসেবে তার বয়স ১০৫ বছর। তিনি এখনো যথেষ্ট সক্ষম ও সচল আছেন। আমরা আজকে তার ঘরটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি।  তার নিজস্ব কোনো জমি নেই। তবে তিনি যে জমিতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন, সেই জমির মালিক যদি লিখিতভাবে আবেদন করেন বা একটি চুক্তিপত্র দেন যে, সরকারি সহায়তায় ওই জমিতে ঘর করে দিলে আব্দুল বারী আজীবন সেখানে থাকতে পারবেন, তাহলে ভবিষ্যতে যে প্রকল্প আসবে সেখান থেকে সরকারি বরাদ্দের মাধ্যমে তার থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।