রাজু আহম্মেদ, কার্পাসডাঙ্গা
দামুড়হুদা উপজেলার কুড়ুলগাছি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বহিরাগত দুই ব্যক্তির অবৈধ প্রভাব বিস্তার ও নিয়মিত দাপ্তরিক কাজ পরিচালনা করার অভিযোগ উঠেছে। সরকারি কোনো পদে চাকরি না থাকা সত্ত্বেও তারা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার পাশে বসে দাপ্তরিক নথিপত্র সামলানোসহ নিয়মিত অফিস করছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আলমডাঙ্গা এলাকা থেকে আসা সেলিম ও বাবুল নামের দুই ব্যক্তি দীর্ঘ দিন ধরে কুড়ুলগাছি ইউনিয়ন ভূমি অফিস নিয়ন্ত্রণ করছেন। এদের মধ্যে সেলিম নিজেকে সহকারী কর্মকর্তার পাশে টেবিল চেয়ার বসিয়ে কম্পিউটারের মাধ্যমে অফিসের বিভিন্ন কাজ সম্পাদন করেন। অন্যদিকে বাবুল সহকারী ভূমি কর্মকর্তা খাইরুল কবিরের দুপুরের খাবার আনা নেওয়াসহ অফিসের অন্যান্য কাজে নিয়মিত ব্যস্ত থাকেন। অফিসে তাদের নিয়মিত উপস্থিতি ও কর্মকাণ্ড দেখে সাধারণ সেবাগ্রহীতা ও এলাকাবাসী সেলিমকে ছোট তহশিলদার এবং বাবুলকে সহকারী অফিসার বলেই মনে করেন।
গুরুত্বপূর্ণ একটি সরকারি অফিসে সরকারি নিয়োগ ছাড়া বহিরাগতদের এভাবে ফাইলপত্র ও দাপ্তরিক কাজ পরিচালনার খবর ছড়িয়ে পড়ায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। এলাকাবাসীর প্রশ্ন কার ক্ষমতার বলে ও কার অনুমতিতে বহিরাগতরা স্পর্শকাতর সরকারি নথিপত্র নিয়ে কাজ করছে? গোপন তথ্য বা সরকারি নথি বাইরে পাচার হলে তার দায় কে নেবে?
সরোজমিনে কুড়ুলগাছি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার পাশেই কম্পিউটারে কাজ করতে দেখা যায় সেলিমকে। এ সময় সংবাদকর্মীরা ক্যামেরা চালু করলে সেলিম মুখ ঢেকে টেবিল ছেড়ে সটকে পড়েন এবং কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে কুড়ুলগাছি ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা খাইরুল কবির বলেন,আমি টাইপে কিছুটা দুর্বল তাই কাজ সুবিধার জন্য সেলিমকে এনে টাইপ করাই। এছাড়া অন্য কোনো বিষয়ে তার হস্তক্ষেপ করার সুযোগ নেই। তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া বহিরাগত দিয়ে অফিস চালানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি স্বীকার করেন যে, তিনি কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমতি নেননি।
দামুড়হুদা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহীন আলম জানান, সরকারি চাকরিজীবী ছাড়া অন্য কোনো বহিরাগত ব্যক্তির অফিসে বসে এ ধরনের কাজ করার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) লাভলী ইয়াসমিন জানান, বিষয়টি তিনি নোট করে রেখেছেন এবং পর্যবেক্ষণ করছেন। সরকারি ভূমি অফিসের গোপনীয়তা রক্ষা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে বহিরাগত সেলিম ও বাবুলের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের আশু হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন এলাকাবাসী ও সচেতন মহল।
কুড়ুলগাছি ভূমি অফিসে সহকারী কর্মকর্তার পাশে বসেই বহিরাগত দুই ব্যক্তি সরকারি নথিপত্র নিয়ে চালিয়ে যাচ্ছেন দাপ্তরিক কাজ



