স্টাফ রিপোর্টার
চুয়াডাঙ্গায় মাসিক এনজিও বিষয়ক সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা আইসিটির) বিএম তারিকুজ্জামান অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।
এনজিও বিষয়ক সমন্বয় সভার গত জুলাই মাসের কার্যবিবরণী পাঠ করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাহাদ চৌধুরী। সভায় জানানো হয় সেসব এনজিও স্বাস্থ্য ক্যাম্প ও ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প করার পূর্বে সিভিল সার্জন ও জেলা প্রশাসককে অবহিত করতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরকারি কারিকুলামের বাইরে অন্য কোন বই পড়ানো যাবে না বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়াও সকল এনজিওকে আত্নহত্যা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এসময় জেলায় কর্মরত বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় এনজিওর প্রতিনিধিরা তাদের বিগত মাসের কাজের অগ্রগতি এবং আগামী মাসের কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করেন।
সভায় জেলার আত্মহত্যা পরিস্থিতি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। আত্মহত্যা প্রতিরোধে এনজিওসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। শুধু দিবসভিত্তিক বা বিচ্ছিন্ন কর্মসূচি নয়, সারা বছর ধরে সচেতনতামূলক ও মোটিভেশনাল কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় জেলার বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় এনজিওর প্রতিনিধিরা তাদের বিগত মাসের কর্মকাণ্ডের অগ্রগতি তুলে ধরেন। একই সঙ্গে আগামী মাসে কী ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। সামাজিক উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, সচেতনতা বৃদ্ধি ও বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা মোকাবিলায় এনজিওগুলোর কার্যক্রম আরও সমন্বিত করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, চুয়াডাঙ্গায় ধনী-দরিদ্রসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যেই আত্মহত্যার প্রবণতা রয়েছে। এ প্রবণতা থেকে মানুষকে রক্ষা করতে হলে বছরব্যাপী মোটিভেশনাল ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাতে হবে। বছরে একটি অনুষ্ঠান করলাম, আর সারা বছর বসে থাকলাম এভাবে আত্মহত্যার প্রবণতা কমানো সম্ভব নয়। আত্মহত্যা প্রতিরোধে সারা বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে কাজ করতে হবে। মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে হবে এবং তাদের মানসিকভাবে শক্তিশালী করে তুলতে হবে।
জটিল রোগে মৃত্যুর পাশাপাশি আত্মহত্যার বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। চুয়াডাঙ্গায় আত্মহত্যার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি খোঁজ করছি, জেলায় আত্মহত্যা প্রতিরোধ নিয়ে কারা কাজ করছে। গত বছরের জুন মাসে চুয়াডাঙ্গায় ২৮ জন আত্মহত্যা করেছেন। চলতি বছরের জুন মাসে এ সংখ্যা বেড়ে ৩১ জনে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ আত্মহত্যার প্রবণতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এখানে জটিল রোগে যত না মানুষ মারা যায়, তার থেকে বেশি মারা যাচ্ছে সুইসাইডের মাধ্যমে।
এ সময় পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক দীপক কুমার সাহা, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের কৃষি প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন, ব্রাকের ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার মানিক ম্যাক্সিমাম রোগা, জহির রায়হান, ইম্পাক্ট ফাউন্ডেশনের মিজানুর রহমানসহ এনজিও সমূহের প্রতিনিধিবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন ।


