চুয়াডাঙ্গায় জামায়াতের উদ্যোগে ইসলামী শিক্ষা দিবসে এমপি রুহুল আমিন ‘ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নৈতিক ও আদর্শভিত্তিক শিক্ষায় গড়ে তুলতে হবে’

স্টাফ রিপোর্টার
চুয়াডাঙ্গায় জামায়াতের উদ্যোগে ইসলামী শিক্ষা দিবস উদযাপিত হয়েছে। গতকাল শনিবার বেগনগর কিন্ডারগার্টেন স্কুলের হল রুমে এ দিবস পালিত হয়। জেলা নায়েবে আমির মাওলানা  আজিজুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য জেলা আমির রুহুল আমিন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে  তিনি বলেন, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্র সংঘের গুটিকয়েক সদস্যের মধ্যে শহীদ আব্দুল মালেক ছিলেন একজন। সে সময় তীব্র আন্দোলনের চাপে  আইয়ুব খান পদত্যাগ করেছেন। ইয়াখান তখন ক্ষমতায়। এরই এক পর্যায়ে মার্শাল নূর খানের নেতৃত্বে একটি শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। এই শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে বিতর্ক দেখা  যায়। ছাত্র সমাজের একটি অংশ ইসলামী আদর্শের ভিত্তিতে জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থা পুনর্গঠনের দাবি তোলেন। এই ব্যবস্থায় বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের ধ্বজাধারী ছাত্র নেতৃবৃন্দ। তারা এই শিক্ষা ব্যবস্থা বাতিলের আবেদন জানায়। এই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের শিক্ষার ভিত্তি কী হবে, এই নিয়ে জনমত জরিপ তৈরি হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজনে এই প্রেক্ষাপটে ২ রা আগস্ট বিতর্ক সভার আয়োজন করা হয়। তিনি বলেন, শহীদ আব্দুল মালেক ৫ মিনিটের বক্তব্যে  সব উলোট-পালট করে দেয়। এরপর ১২ আগষ্ট বামপন্থী ছাত্র নেতৃবৃন্দ  টিএসসিতে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করে। ঐ আলোচনায় আব্দুল মালেক কে অংশ গ্রহণ করতে দেয় না তারা। এতে তিনি প্রতিবাদ করেন। এতে সংঘর্ষে রুপ নেয়। এই ঘটনায়  তৎকালীন ডাকসুর ভিপি তোফায়েল আহমেদ ও হাসানুল হক ইনু নেতৃত্বে শহীদ আব্দুল মালেকের উপর হামলায় হয়। ঐ হামলায় তিনি আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি  হন এবং ১৫ আগষ্ট তিনি শাহাদাত বরণ করেন। সেই থেকে এই দিনে ইসলামী ছাত্রশিবির ইসলামী শিক্ষা দিবস পালন করে আসছে। তিনি বলেন বিগত ১৫ বছরে এই দিন বাবার মৃত্যু বার্ষিকী হওয়ায় আমরা ইসলামী শিক্ষা দিবস পালন করতে পারিনি।
জামায়াতের জেলা সেক্রেটারি অ্যাড. আসাদুজ্জামানের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারির আব্দুল কাদের, জেলা প্রশিক্ষণ সম্পাদক জিয়াউল হক, বাংলাদেশ মুফাসিরিনের জেলা সভাপতি মাওলানা আবু জার গিফারী, সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ আবদুল খালেক, মওলানা হাফিজুর রহমান, ডাঃ হুমায়ুন কবীর, মওলানা আব্দুস সাত্তার (কাশিুপুর) ও মসওলানা জহুরুল ইসলাম।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।