স্টাফ রিপোর্টার
চুয়াডাঙ্গায় মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বি.এম তারিক উজ জামানের সঞ্চালনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার। এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল। সভার শুরুতে জেলার বিভিন্ন অপরাধের চিত্র তুলে ধরা হয়। জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহবান জানান কমিটির সদস্যরা।
সভায় জানানো হয় জেলায় গত জুলাই মাসে মোট ৮টি চুরির মামলা দায়ের করা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা সদরে ২টি, আলমডাঙ্গায় ২টি, দামুড়হুদায় ২টি ও জীবননগর ২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সেই সাথে আলমডাঙ্গা উপজেলা একটি খুনের মামলা দায়ের হয়েছে। জুলাই মাসে অস্ত্র আইনে আলমডাঙ্গায় ১টি ও জীবননগর ১টি এই মোট দুটি মামলা দায়ের হয়েছে। জুলাই মাসে দামুড়হুদায় ২টি, চুয়াডাঙ্গা সদরে ১টি ও আলমডাঙ্গায় ১টি মোট চারটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়েছে। সেই সাথে জেলায় মোট ৮টি নারী নির্যাতন মামলা দায়ের হয়েছে।
পুলিশ বিভাগ কর্তৃক গত জুলাই মাসে জেলায় মোট ৩২টি মাদক মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কর্তৃক ৯টি মামলা দায়ের হয়েছে। বিজেপি কর্তৃক দুইটি চোরাচালান মামলা দায়ের হয়েছে। জেলায় অপমৃত্যুর মামলা দায়ের হয়েছে মোট ২৮ টি। সভায় আরোও জানানো হয়, গত জুলাই মাসে মোবাইল কোর্টের ৫০টি অভিযানের মাধ্যমে ১১৯ টি মামলায় ৩ লাখ ৯৭ হাজার ১৫০ টাকা অর্থদণ্ড এবং ৩৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। পুলিশ বিভাগ কর্তৃক সড়ক পরিবহন আইনে ২৬২ টি প্রসিকিউশন দাখিলে ৯ লাখ ৬৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মাদক মামলাসহ অন্যান্য মোট ৮৩ টি মামলায় ৬ কোটি ৪৭ লক্ষ ৯ হাজার ১৭৮ টাকা মূল্যের মালামাল জব্দ করা হয়েছে। জেলা পুলিশের ৩২ টি মামলায় ১১ লাখ ৬১ হাজার ৫০ টাকা, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ৪৬ টি মামলায় ৫ লাখ ৮০০ টাকা, ৬ বিজিবির ৩ টি মামলায় ৪ কোটি ৯১ লাখ ২৫ হাজার ৮২৮ টাকা ও ৫৮ বিজিবি মহেশপুরের ১টি মামলায় ১ কোটি ৩৫ লাখ ৩১ হাজার ৫০০ টাকা এবং র্যাব কর্তৃক ১ টি মামলায় ৩ লাখ ৯০ হাজার টাকার মালামাল জব্দ করা হয়। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চুয়াডাঙ্গা কর্তৃক বাজার তদারকিতে ৬টি প্রতিষ্ঠানে ২ লাখ ৬৫ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ রাখতে প্রশাসন, পুলিশ, বিজিবি, আনসারসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। অপরাধ, মাদক, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং, সাইবার অপরাধ এবং সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টিকারী যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় থাকবে। বাজারে ইদানিং আয়োডিনযুক্ত লবণ পাওয়া যায় না। বাজারে যতগুলো লবণ বিক্রয় হয় প্রত্যেকটি পর্যবেক্ষণ করতে হবে। আয়োডিন বিহীন লবণ কখনোই খাওয়া যাবেনা। ভোক্তা অধিকারের সহকারী পরিচালককে সঙ্গে করে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়ে গিয়ে বাজারের প্রতিটি প্যাকেট জাত লবণের আয়োডিন পরীক্ষা করা নির্দেশ দেন তিনি।
সার সংকট নিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, মাত্রাতিরিক্ত সার যে নেবে সেই কৃষককে আইনের আওতায় আনতে হবে। কৃষকেরা অধিক পরিমাণে সার ব্যবহার করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। সরকার প্রয়োজন অনুযায়ী সার বরাদ্দ দিলেও সারের সংকট দেখা দিচ্ছে। এই সার সংকট মোকাবেলায় আমাদের জৈব সারের দিকে ধাবিত হতে হবে। জমিতে জৈব সার প্রয়োগের ক্ষেত্রেও মাটির সঠিক উর্বরতা বজায় থাকে। তাই এ বিষয়ে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী ও সচেতন নাগরিকদের সহযোগিতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এ সময় প্রধান অতিথি সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল বলেন, জেলার শিক্ষার মান বাড়াতে হবে। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে দেখা যায় বিভিন্ন সিগারেটের দোকান খোলা থাকে এগুলো বন্ধ করতে হবে। শহর পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর লেখাপড়ার মান বৃদ্ধি করলে গ্রাম পর্যায়ের লেখাপড়ার মান এমনিতেই বৃদ্ধি পাবে।
তিনি আরো বলেন, চুয়াডাঙ্গার বাজারগুলোতে ভেজাল গো-খাদ্য সয়লাব। অনেক খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বাইরের থেকে কম মূল্যে গো-খাদ্য কিনে নিয়ে এসে নিজেদের প্যাকেটজাত করে বিক্রি করে। এই গো-খাদ্য যে গরুগুলোকে খাওয়ানো হয় সেই গরুর মাংস খাওয়া আমাদের জন্য স্বাস্থ্য ঝুঁকি রয়েছে। তাই এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে সচেতন হতে হবে।
আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় আরোও উপস্থিত ছিলেন পৌর প্রশাসক শারমিন আক্তার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিনহাজ উল ইসলাম, সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক জাহিদুল হাসান, মহিলা কলেজের সহযোগী অধ্যাপক সাজ্জাদ হোসেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. সাহাবুদ্দিন, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফরহাদুর রেজা, সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সিদ্দিকুর রহমান, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার তিথি মিত্র, জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমাইয়া সুলতানা এ্যানি, আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহীনুর আক্তার, দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার লাভলী ইয়াসমিন, সহকারী পুলিশ সুপার শেখ মো. নুরুল্লাহ, জেলা শিক্ষা অফিসার আনিসুর রহমান, জেলা দুর্নীতি দমন কমিটির সভাপতি প্রফেসর কামরুজ্জামান, সমাজসেবার উপপরিচালক জাকির হোসেন, নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা রিয়াজ মাহমুদ, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক তাজুল ইসলাম, বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালক নাহিদ হাসান, জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা সহিদুল ইসলাম, তথ্য অফিসার শিল্পী মণ্ডল, প্রেসক্লাব সভাপতি নাজমুল হক স্বপনসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।
চুয়াডাঙ্গায় মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার



