আলমডাঙ্গায় প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধার নামে নির্মিত বীর নিবাস নিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা

আলমডাঙ্গা অফিস
আলমডাঙ্গা উপজেলার বাড়াদি গ্রামের প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা লস্কর আলীর নামে নির্মিত সরকারি বীর নিবাস নিয়ে ওঠা অভিযোগের তদন্ত শেষ হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্ধারিত জায়গায় বীর নিবাস নির্মাণ না করে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই অন্যের জমিতে এটি নির্মাণ করা হয়েছে। তবে বীর নিবাস বিক্রির অভিযোগের পক্ষে তদন্তে সরাসরি কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে বীর নিবাসের আবেদনকারী ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ইসমাঈল হোসেনকে স্বচ্ছল ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসনের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত ১৬ জুলাই তদন্ত কমিটির সদস্যরা বাড়াদি গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্ত করেন।
তদন্ত কমিটি সূত্রে জানা গেছে, তিনটি অভিযোগকে সামনে রেখে তদন্ত করা হয়। এগুলো হলো বীর নিবাস অন্যের জমিতে নির্মাণ করা হয়েছে কি না, বীর নিবাস বিক্রি করা হয়েছে কি না এবং আবেদনকারী স্বচ্ছল কি না। তদন্তে প্রথম ও তৃতীয় অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানান, ইসমাঈল হোসেন নির্ধারিত জায়গায় বীর নিবাস নির্মাণ না করে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই সায়েরা খাতুনের জমিতে বীর নিবাস নির্মাণ করেছেন। তবে বীর নিবাস বিক্রির বিষয়ে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। যদিও সায়েরা খাতুনের কাছ থেকে ধার বা ঋণ হিসেবে নেওয়া ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা পরিশোধে বিলম্বের ঘটনায় বীর নিবাস বিক্রির ইঙ্গিত পাওয়া যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ইসমাঈল হোসেন একজন স্বচ্ছল ব্যক্তি।
স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সরকারি অর্থে নির্মিত বীর নিবাসটি ইসমাঈল হোসেন সায়েরা খাতুনের কাছে পাঁচ লাখ টাকায় বিক্রির মৌখিক চুক্তি করেছিলেন। সে অনুযায়ী সায়েরা খাতুন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা পরিশোধ করেছেন বলেও প্রথম দিকে দাবি করেছিলেন।
তবে তদন্ত চলাকালে বীর নিবাস ক্রয়-বিক্রয়ের বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দেন সায়েরা খাতুন। তিনি তদন্ত কমিটিকে জানান, বীর নিবাস প্রথম পর্যায়ে যেখানে নির্মাণের কথা ছিল, সেই জায়গার জন্য তিনি ইসমাঈল হোসেনকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা ঋণ দিয়েছিলেন। পরে বীর নিবাস নির্মাণের জন্য ইসমাঈল হোসেন তাঁকে ১০ শতক আবাদি জমির বিনিময়ে তাঁর বসতবাড়ির ২ শতক জমি দেওয়ার কথা মৌখিকভাবে জানান।
অন্যদিকে ইসমাঈল হোসেনও বীর নিবাস বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করেন। তদন্ত কমিটির কাছে তিনি দাবি করেন, বীর নিবাস নির্মাণের সময় সায়েরা খাতুনের কাছ থেকে তিনি ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন।
ইসমাঈল হোসেন আরও জানান, বীর নিবাস পাওয়ার পর যে জমির দলিল জমা দেওয়া হয়েছিল, সেখানে নির্মাণকাজ শুরু করার সময় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আবাসন নির্মাণের নির্ধারিত নকশায় কিছুটা পরিবর্তন আসে। এ কারণে নির্মাণকাজ স্থগিত হয়ে যায়। পরে নিজের বসতবাড়িতে প্রয়োজনীয় পরিমাণ জমি না থাকায় এক আত্মীয়ের মাধ্যমে সায়েরা খাতুনের জমিতে বীর নিবাস নির্মাণ করা হয়।
এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীনূর আক্তার তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটির প্রধান করা হয় উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এস. এম. মাহমুদুল হককে। সদস্য ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন ও যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার দে।
তদন্ত কমিটি সরেজমিনে বাড়াদি গ্রামে গিয়ে সরাসরি ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করে প্রতিবেদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জমা দিয়েছে।
এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীনূর আক্তার বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।