স্টাফ রিপোর্টার
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় স্বেচ্ছাশ্রম বা ব্যক্তি উদ্যোগে খাল খনন কর্মসূচির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার বিকেল ৩টায় সদর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তিথি মিত্র।
তিনি বলেন, এক মাস আগে জেলা পর্যায়ে এ বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হলেও উপজেলা পর্যায়ের এ সভায় আরও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। অংশগ্রহণকারীরা খাল খনন কার্যক্রম বাস্তবায়ন, সংশ্লিষ্ট শর্তাবলি এবং সরকারি পরিপত্র অনুসরণ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত প্রদান করেছেন। খাল খনন কার্যক্রম অবশ্যই সরকারের নীতিমালা ও নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালিত হবে। এমন কোনো কাজ করা হবে না, যাতে প্রশাসন বা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়। বরং কার্যক্রমটি যেন সর্বাধিক জনকল্যাণমূলক ও ফলপ্রসূ হয়, সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। তিনি আরো বলেন, খাল খননের ফলে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে। প্রয়োজনে ধীরগতিতে হলেও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।
খাল খনন কর্মসূচির সভায় চুয়াডাঙ্গা প্রেস ক্লাবের সভাপতি নাজমুল হক স্বপন বলেন, জেলার অনেক খাল ভরাট হয়ে গেছে মূলত নদীর সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার কারণে। তাই খাল পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি নদী খননের বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে। খাল খনন কার্যক্রমে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে এবং সাধারণ মানুষকে এ বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। পাশাপাশি কোন খাল বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) বা পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাভুক্ত, কোথাও কোনো চলমান প্রকল্প বা টেন্ডার রয়েছে কি না, তা যাচাই করে পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে হবে। খালগুলোকে নদীর প্রবাহের সঙ্গে পুনরায় সংযুক্ত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সভায় বাংলাদেশ ইট প্রস্তুতকারী মালিক সমিতি সভাপতি কাজী নাসিরুদ্দিন শান্তি এবং সাধারণ সম্পাদক হাজী আব্দুল মোতালেব স্বেচ্ছায় খাল খনন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণে আগ্রহ প্রকাশ করেন। তারা সরকারের নীতিমালা অনুসরণ করে এ কার্যক্রমে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এ সময় আরোও উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সিদ্দিকুর রহমান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নাহিদা ইসলাম, পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলামসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।



