সরোজগঞ্জ প্রতিনিধি
নিখোঁজের ৮ দিন পর কুতুবপুর গ্রামের অর্জুন খাল থেকে রাফিন (২২) নামে এক যুবকের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার সকালে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুতুবপুর গ্রামের অর্জুন খাল থেকে অর্ধগলিত মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত রাফিন আলমডাঙ্গা উপজেলার নাগদাহ ইউনিয়নের চিলাভালকি গ্রামের সৌদি প্রবাসী আক্তার হোসেনের ছেলে। রাফিন পেশায় একজন ব্যাটারিচালিত পাখিভ্যান চালক।
পরিবারের অভিযোগ, মুক্তিপণের টাকা না পেয়ে অপহরণকারীরা তাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, গত শুক্রবার বিকালের দিকে এক কৃষক গরু চরাতে গিয়ে অর্জুন খালে একটি মরদেহ ভাসতে দেখেন। পরে তিনি পুলিশকে খবর দিলে কুতুবপুর পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন। তবে রাত গভীর হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। গতকাল শনিবার সকালে সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
নিহতের দাদি আমেনা বেগম জানান, গত ৫ জুন সকালে রাফিন তার ব্যাটারিচালিত পাখিভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। সন্ধ্যা পর্যন্ত বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
তিনি বলেন, সেদিন রাত ৮টার দিকে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন করে জানানো হয়, রাফিনকে অপহরণ করা হয়েছে। তাকে জীবিত ফেরত পেতে হলে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে। পরে আমরা থানায় অভিযোগ করি।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, অপহরণকারীদের সঙ্গে যোগাযোগের সময় তারা রাফিনের অবস্থান জানতে চাইলেও কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। বরং ফোনের অপর প্রান্ত থেকে তাকে মারধরের শব্দ শোনানো হয়।
নিহতের মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলেকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার পর বারবার টাকা দাবি করা হয়েছে। কখনো ২০ লাখ, কখনো কম টাকার কথা বলেছে। আমার সন্তানকে অনেক নির্যাতন করা হয়েছে। আমি আমার সন্তানের এই মৃত্যু মেনে নিতে পারছি না। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।
‘স্থানীয়রা জানান, রাফিন দীর্ঘদিন ধরে তার দাদির সঙ্গেই বসবাস করতেন। পরিবারের অভাব-অনটনের মধ্যে পাখিভ্যান চালিয়ে সংসারে সহযোগিতা করতেন তিনি। তার এমন মর্মান্তিক মৃত্যু এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অপহরণকারীরা বিভিন্ন সময়ে মুক্তিপণের অঙ্ক পরিবর্তন করে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। সর্বশেষ পাঁচ লাখ টাকায় সমঝোতার কথাও বলা হয়েছিল।
চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জামাল আল নাসের বলেন, অর্ধগলিত একটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একটি পরিবার মরদেহটিকে তাদের সন্তান রাফিন বলে শনাক্ত করেছে। তবে মরদেহটি অর্ধগলিত হওয়ায় ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করা হবে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, যদি মরদেহটি রাফিনের হয়ে থাকে, তাহলে এটি আলমডাঙ্গা থানায় দায়ের করা অপহরণ মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হতে পারে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নিখোঁজের ৮ দিন পর কুতুবপুরের অর্জুন খাল থেকে যুবকের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার পরিবারের দাবি মুক্তিপণ না দেওয়ায় হত্যা, একজন আটক



