কেডিকে ইউনিয়নে গ্রাম আদালতের সেবা বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে বার্ষিক ক্যাম্পেইন

রকিবুজ্জামান / টিপু সুলতান, জীবননগর
জীবননগর উপজেলার কেডিকে ইউনিয়নে গ্রাম আদালতের সেবা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বার্ষিক ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকাল ৫টায় কেডিকে ইউনিয়ন পরিষদের হলরুমে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। স্থানীয় বিচার ব্যবস্থাকে আরও সুদৃঢ় ও টেকসই করার লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের আওতায় স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক বাস্তবায়িত “বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (তৃতীয় পর্যায়) প্রকল্পের অংশ হিসেবে এই ক্যাম্পেইন পরিচালিত হচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় জীবননগর উপজেলার কেডিকে ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। গ্রাম আদালতের কার্যপ্রণালী ও সুবিধাসমূহ সম্পর্কে জনসাধারণকে অবহিত করে এ সেবা গ্রহণে উৎসাহিত করাই ছিল অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা গ্রাম আদালতের সমন্বয়ক শিশির চৌকিদার। সভাপতিত্ব করেন কেডিকে ইউনিয়নের প্রশাসক মিঠুন চন্দ্র শাহ। এছাড়া গ্রাম আদালতের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিলন মেম্বার, বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কেডিকে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মনোয়ার হোসেন মাস্টার, সাধারণ সম্পাদক রফিউল আলিম, কেডিকে ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আব্দুর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মোকলেছুর রহমান বকুল, মাওলানা আব্দুর সাত্তার, মিলন শাহ, আব্দুর শুকুর, মজিবর রহমান, কাশিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অহিদুল ইসলাম বিশ্বাস, মশিউর রহমান, আব্দুস সামাদ, শাহাদত, সাংবাদিক টিপু সুলতান, কায়দার ডাক্তার, ছলেমান, কুদ্দুস, সইরদ্দি, হারুন, মিলন হোসেন মেম্বার, মুকুল, মোশাররফ হোসেন, আবুদর্দা মালিতা ও হাবিল প্রমুখ।
প্রধান আলোচকের বক্তব্যে উপজেলা সমন্বয়ক শিশির চৌকিদার বলেন, ইতোমধ্যে জীবননগর উপজেলার মনোহরপুর, রায়পুর এবং কেডিকে ইউনিয়নে গ্রাম আদালতের সেবা বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বার্ষিক ক্যাম্পেইন সম্পন্ন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় গ্রাম আদালতে দ্রুত মামলা নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। গ্রাম আদালতের বিচারক থাকবেন পাঁচজন। এর মধ্যে বাদী পক্ষ মনোনীত দুইজন এবং বিবাদী পক্ষ মনোনীত দুইজন থাকবেন। প্রয়োজনে গণ্যমান্য ব্যক্তি কিংবা সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সদস্যকে বিচারক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। কোনো পক্ষ মনোনীত ব্যক্তিকে পছন্দ না করলে বিকল্প গণ্যমান্য ব্যক্তিকে নির্বাচন করার সুযোগ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গ্রাম আদালত সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকা মূল্যমানের বিরোধ নিষ্পত্তি করতে পারে। এর বেশি অর্থমূল্যের বিরোধ গ্রাম আদালতের আওতাভুক্ত নয়। এছাড়া পাঁচ সদস্যের বিচারে যদি তিন-দুই ভোটে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, তবে ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ থাকে না। গ্রাম আদালতের কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত দিকনির্দেশনামূলক আলোচনা ও সচেতনতামূলক বক্তব্য উপস্থাপন করেন তিনি এবং স্থানীয় জনগণকে ন্যায়বিচার পাওয়ার লক্ষ্যে গ্রাম আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠান শেষে কেডিকে ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সচিব শাহিন মোল্লা গ্রাম আদালতের কার্যক্রমে সহযোগিতা ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখায় ছয়জনকে সম্মাননা প্রদান করেন। সম্মাননাপ্রাপ্তরা হলেন কেডিকে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মনোয়ার হোসেন মাস্টার, সাধারণ সম্পাদক রফিউল আলিম, জামায়াতের আমির আব্দুর রহমান, মাওলানা আব্দুস সাত্তার, কাশিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওহিদুর হোসেন এবং দৈনিক আজকের চুয়াডাঙ্গা পত্রিকার সাংবাদিক টিপু সুলতান।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।