তিতুদহ এলাকা থেকে বিপন্ন গন্ধগোকুলের ৫টি বাচ্চাকে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিল পরিবেশবাদীরা

তিতুদহ প্রতিনিধি
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার তিতুদহ ও গড়াইটুপি ইউনিয়নের মাঝামাঝি শেকারগাড়ি মাঠ থেকে ৫টি বিপন্ন গন্ধগোকুলের বাচ্চা উদ্ধার করা হয়েছে।  ধান কাটতে গিয়ে কৃষকদের চোখে পড়ে বাঘ সদৃশ্য দেখতে ৫টি ছোট বাচ্চা। প্রথমে আতঙ্কিত হলেও পরে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে তারা যোগাযোগ করেন পরিবেশবাদী সংগঠন বাংলাদেশ ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড নেচার ইনিশিয়েটিভ-এর সাথে।
স্থানীয় কৃষক মাসুদ রানা দ্রুত সংগঠনটির সদস্যদের পাশাপাশি বড় সলুয়া নিউ মডেল ডিগ্রি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক আহসান হাবীব শিপলুকে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে সংগঠনের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং বাচ্চাগুলো পরীক্ষা করে এগুলোকে বিপন্ন প্রজাতির গন্ধগোকুল বা স্মল ইন্ডিয়ান সিভেট হিসেবে শনাক্ত করেন। সংগঠনের সদস্যরা জানান, গন্ধগোকুল বাংলাদেশের একটি সংরক্ষিত ও বিপন্ন প্রাণী। একসময় দেশের বিভিন্ন জেলায় এদের দেখা মিললেও বর্তমানে আবাসস্থল ধ্বংস ও মানবিক হস্তক্ষেপের কারণে এরা প্রায় বিলুপ্তির পথে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত কৃষকদের কাছ থেকে জানা যায়, এর আগে ওই এলাকায় বাচ্চাগুলোর মাকে দেখা গিয়েছিল। এরপর সংগঠনের সদস্যরা বাচ্চাগুলোর মাকে খুঁজতে মাঠের আশেপাশে অনুসন্ধান চালান। দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পর একটি নিরাপদ স্থানে বাচ্চাগুলোকে রাখা হলে তাদের ডাকার শব্দে মা গন্ধগোকুলটি ছুটে আসে এবং একে একে বাচ্চাগুলোকে নিয়ে নিরাপদ স্থানে সরে যায়।
এই দৃশ্য উপস্থিত সবার মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দের সৃষ্টি করে। একটি বিপন্ন প্রাণীর পরিবার পুনর্মিলনের এমন ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। প্রাণিবিদ্যা প্রভাষক আহসান হাবীব শিপলু বলেন, গন্ধগোকুল আমাদের দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ। স্মল ইন্ডিয়ান সিভেট এ অঞ্চলে বিরল হয়ে পড়েছে। প্রায় দুই বছর আগে একই এলাকায় একটি পূর্ণবয়স্ক গন্ধগোকুল অবমুক্ত করা হয়েছিল। আজকের এই সফলতা মূলত স্থানীয় কৃষকদের সচেতনতার ফল। তারা যদি ভয় পেয়ে প্রাণীগুলোকে ক্ষতি করতেন, তাহলে হয়তো এই ৫টি প্রাণ বাঁচতো না। তাদের এই মানবিক ভূমিকা সত্যিই প্রশংসনীয়। এসময় সংগঠনের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হাসানুজ্জামান রিগান, সাব্বির, আবরার ফাইয়াজসহ স্থানীয় গ্রামবাসীরা।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।