অতিরিক্ত বৃষ্টিতে বোরো ধান কাটায় শঙ্কা দুশ্চিন্তায় কার্পাসডাঙ্গা ও নাটুদহের কৃষকরা

আটকবর প্রতিনিধি
বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন সোনালী পাকা বোরো ধানের সমারোহ। হালকা বাতাসে ঢেউ তুলে দুলছে ধান, যেন এক অপূর্ব প্রাকৃতিক দৃশ্য। কিন্তু এই সৌন্দর্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে কৃষকের গভীর উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তা। অতি বৃষ্টি ও অনিশ্চিত আবহাওয়ার কারণে পাকা ধান কাটতে সাহস পাচ্ছেন না চাষিরা। ফলে স্বপ্নের ফসল মাঠেই ঝুঁকির মুখে পড়ে আছে।
বৈশাখ মাসের ২২ দিন পেরিয়ে গেলেও দেখা মিলছে না কাঙ্ক্ষিত রোদের। প্রায় প্রতিদিনই আকাশ ঢেকে যাচ্ছে কালো মেঘে। বিশেষ করে দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ও নাটুদহ ইউনিয়নে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। মাঝেমধ্যেই গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি ও ভারী বর্ষণের আশঙ্কায় ধান কাটার কাজ ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় ধানচাষী মনিরুল ও আজিজুল জানান, এ সময় সাধারণত খরা থাকে, তীব্র রোদে জমি শুকিয়ে যায়। তখন ধান কাটতে কোনো সমস্যা হয় না। কিন্তু এবার আবহাওয়ার আচরণ একেবারেই ভিন্ন। বৃষ্টির ভয়ে মাঠে নামতেই ভয় লাগছে। অনেকেই ঝুঁকি নিয়ে ধান কাটা শুরু করেছেন।
নাটুদহ ইউনিয়নের কৃষি সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমান আবহাওয়া পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে কৃষকদের বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। নির্ধারিত সময়ে ধান কাটতে না পারলে ফলন নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বাজারে ন্যায্য মূল্য থেকেও বঞ্চিত হতে পারেন তারা। এতে কৃষকের অর্থনৈতিক অবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
কৃষকদের দাবি, দ্রুত আবহাওয়ার উন্নতি না হলে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, টানা বৃষ্টি শুরু হলে জমিতে দাঁড়িয়ে থাকা পাকা ধান মাটিতে লুটিয়ে পড়তে পারে, যা পুরো মৌসুমের পরিশ্রমকে মুহূর্তেই নষ্ট করে দেবে।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।