চুয়াডাঙ্গায়-মেহেরপুর ও ঝিনাইদহে ১১ দলীয় জোটের উদ্যোগে

স্টাফ রিপোর্টার
কেন্দ্রীয় কর্মসুচির অংশ হিসেবে চুয়াডাঙ্গায়-মেহেরপুর ও ঝিনাইদহে সংবিধান সংস্কার ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে   দাবিতে ১১ দলীয় জোটের  উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল এবং সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকালে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
গতকাল শনিবার বিকেল ৫টায় চুয়াডাঙ্গা টাউন মাঠ থেকে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে কবরী রোড, সরকারি কলেজ রোড, কোর্ট রোড, ভি.জে. স্কুল রোড, শহীদ হাসান চত্বর ও নিউমার্কেট এলাকা ঘুরে পুনরায় টাউন মাঠে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত হয় সমাবেশ।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর চুয়াডাঙ্গা জেলা আমির ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য রুহুল আমিন। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশের জনগণ দীর্ঘদিন ধরে একটি কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী রাষ্ট্র কাঠামো প্রত্যাশা করছে। জুলাই সনদ এবং গণভোটের রায় সেই প্রত্যাশারই প্রতিফলন। জনগণ তাদের মতামত স্পষ্টভাবে দিয়েছে। এখন সেই রায় বাস্তবায়ন করা সরকারের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, জনগণের দেওয়া রায়কে উপেক্ষা করে কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক ধারা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় দেশের জনগণ রাজপথে নেমে তাদের অধিকার আদায় করে নেবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল বলেন, সরকার জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় নিয়ে যে টালবাহানা শুরু করেছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক। জনগণের মতামতকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কোনো সরকার টিকে থাকতে পারে না। জনগণ পরিবর্তন চায়, সংস্কার চায়, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা চায়। অথচ সরকার নানা অজুহাতে সেই বাস্তবায়নকে বিলম্বিত করছে। আমরা সরকারকে সতর্ক করে বলতে চাই, জনগণের ধৈর্যের পরীক্ষা নেবেন না। অবিলম্বে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের রোডম্যাপ ঘোষণা করতে হবে। অন্যথায় দেশের সর্বস্তরের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আরও কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।  
জেলা সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান-এর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আজিজুর রহমান, জেলা সহকারী সেক্রেটারি আব্দুল কাদের, সাবেক জেলা আমির আনোয়ারুল হক মালিক,  জেলা যুব বিভাগের সভাপতি নূর মোহাম্মদ হোসাইন টিপু ইসলামী ছাত্রশিবিরের জেলা সভাপতি সাগর আহমেদ, সেক্রেটারি হাফেজ মাসুম বিল্লাহ, জেলা প্রশিক্ষণ সম্পাদক জিয়াউল হক, সমাজকল্যাণ সম্পাদক আলতাফ হোসাইন, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা হাফিজুর রহমান ও মাওলানা ইসরাইল হোসেন, জেলা আইন বিষয়ক সম্পাদক দারুস সালাম, দর্শনা থানা আমির মাওলানা রেজাউল করিম, দামুড়হুদা উপজেলা আমির নায়েব আলী, চুয়াডাঙ্গা পৌরশাখা আমির অ্যাডভোকেট হাসিবুল ইসলাম, আলমডাঙ্গা উপজেলা আমির শফিউল আলম বকুল এবং গাংনী-আসমানখালী থানা আমির আব্বাস উদ্দিনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
সমাবেশ শেষে নেতারা অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।
মেহেরপুর অফিস জানায়, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে সরকার জাতির সাথে প্রতারণা করছে বলে অভিযোগ করেছেন মেহেরপুর ১ আসনের সংসদ সদস্য তাজউদ্দিন খান। গতকাল শনিবার বিকেলে ১১ দলীয় ঐক্যর আয়োজনে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন আমরা চেয়েছিলাম দল-মত নির্বিশেষে সকলকে সাথে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়ার কাজ করতে। সরকারি দল বিরোধীদলকে ডেপুটি স্পিকারের জন্য প্রস্তাব দিচ্ছে কিন্তু যে সত্তর ভাগ মানুষ গণভোটের পক্ষে রায় দিয়েছে তাদের কথা সরকার মানছে না। তিনি আরো বলেন সংসদ অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন গণভোটের বিষয়গুলো মেনে নেওয়া হয়েছিল শুধুমাত্র নির্বাচনের জন্য তারে বক্তব্যে শুনে বোঝা যায় এই জাতির সাথে তারা প্রতারণা করছেন। সত্তর ভাগ মানুষের মতামতকে পদদলিত করে ২১৪ জন এমপির মতামতকে গ্রহণ করে সরকার সামনে এগোতে যাচ্ছে। কিন্তু একদলীয় ভাবে সামনে আগানো অতীতেও সুখকর হয়নি ভবিষ্যতেও হবে না বলে হুঁশিয়ারি করে দেন তিনি। এছাড়াও বিক্ষোভ মিছিল থেকে তেল গ্যাসসহ সকল পণ্যের দাম অবিলম্বে কমানোর দাবি জানান তিনি।
এর আগে মিছিলটি শহীদ শামসুজ্জোহা পার্ক থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সমাবেশের মাধ্যদিয়ে শেষ হয়। এসময় মেহেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য নাজমুল হুদা, জেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, রাজনৈতিক সেক্রেটারি রুহুল আমিনসহ জামায়াত ও ১১ দলীয় ঐক্যর নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিলের অংশগ্রহণ করেন।
ঝিনাইদহ অফিস জানায়, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, সংবিধান সংস্কার এবং গণভোটের রায় কার্যকরের দাবিতে ঝিনাইদহে ১১ দলীয় জোটের উদ্যোগে ব্যাপক গণমিছিল ও জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকেল ৪টায় শহরের ওয়াজির আলী স্কুল মাঠ থেকে এ কর্মসূচি শুরু হয়। কর্মসূচির শুরুতে ওয়াজির আলী স্কুল মাঠ প্রাঙ্গণে সংক্ষিপ্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা শেষে সেখান থেকেই গণমিছিলটি বের হয়। গণমিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়।
ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আমীর আলী আজম মো. আবুবকরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চল পরিচালক মোঃ মোবারক হোসাইন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রফেসর মতিয়ার রহমান এবং ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা মোঃ আবু তালিব। এছাড়া এনসিপির ঝিনাইদহ জেলা সদস্য সচিব আরেফিন কায়সারও বক্তব্য রাখেন।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা নায়েবে আমীর ও পৌর মেয়র পদপ্রার্থী আব্দুল আলীম, জেলা সহকারী সেক্রেটারি আঃ হাই, শৈলকূপা উপজেলা আমীর এ এস এম মতিউর রহমান, মহেশপুর উপজেলা আমীর ফারুক হোসেন, কালীগঞ্জ উপজেলা আমীর আব্দুল হক, হরিণাকুন্ডু উপজেলা আমীর বাবুল হোসেন, শহর আমীর ইসমাইল হোসেন, জেলা শিবির সভাপতি ওবাইদুল্লাহ, শহর সভাপতি শেখ আলামিনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. মোবারক হোসাইন বলেন, দেশ আজ এক সংকটময় সময় অতিক্রম করছে। জনগণের প্রত্যাশা ও গণতান্ত্রিক অধিকার দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং গণভোটের রায় কার্যকর করা এখন সময়ের অনিবার্য দাবি। একটি বৈষম্যহীন, জবাবদিহিমূলক ও গণমুখী রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য জনগণের মতামতের প্রতিফলন জরুরি। সরকার যদি জনগণের আকাঙ্কাকে সম্মান না করে, তবে গণআন্দোলনের মাধ্যমেই জনগণ তাদের ন্যায্য অধিকার আদায় করবে।
তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।