চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদে বর্ণাঢ্য আয়োজনে পহেলা বৈশাখ উদ্যাপন

বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, আলোচনা সভা ও কবিতা পাঠে মুখরিত দিনব্যাপী উৎসব
স্টাফ রিপোর্টার
বাঙালির ঐতিহ্যবাহী বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে গত মঙ্গলবার চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদ চত্বরে দিনব্যাপী পহেলা বৈশাখ উৎসব উদ্যাপিত হয়েছে। দুই পর্বে আয়োজিত এ উৎসবে বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, আলোচনা সভা ও কবিতা পাঠের আসর অনুষ্ঠিত হয়।
প্রথম পর্বে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখা সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ। এ সময় ২০২৬ সালের বইমেলায় প্রকাশিত জেলার পাঁচজন লেখকের পাঁচটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয় এবং বইগুলো নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
লেখক মো. আনছার আলীর “নদীর নাম মাথাভাঙ্গা” বইটি আলোচনা করেন আহাদ আলী মোল্লা। লেখক পিন্টু রহমানের “রাঙ্গা প্রভাত” বইটি আলোচনা করেন রোকন রেজা। লেখক হাবিবুর রহমান বাবুর “মহাজাগতিক রহস্য ও সত্য ও ন্যায়ের নির্দেশিকা” বইটি নিয়ে আলোচনা করেন ড. মুন্সি আবু সাইফ। লেখক এস ইসলামের “নীল আকাশ ও কাশফুল” বইটি আলোচনা করেন আবু নাসিফ খলিল। এছাড়া লেখক হুমায়ুন কবীরের “বোয়ালমারীর শাহ পরিবার” বইটি আলোচনা করেন ড. মুন্সি আবু সাইফ।
নববর্ষ উপলক্ষে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক আসলাম হোসেন অর্ক, সাংবাদিক শাহ আলম সনি, সাংবাদিক হুসাইন মালিক, ‘মাথাভাঙ্গা’ পত্রিকার সম্পাদক সরদার আল আমিন, পরিষদের সাবেক সম্পাদক নজির আহমেদ এবং শিক্ষিকা পূর্ণিমা সাহা।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন অধ্যক্ষ সিদ্দিকুর রহমান, অধ্যক্ষ হামিদুল হক মুন্সী, সরদার আলী হোসেন, শরীফুজ্জামান শরীফ ও তৌহিদ হোসেন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদের সভাপতি ইকবাল আতাহার তাজ এবং সঞ্চালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শেখ সেলিম।
দ্বিতীয় পর্বে অর্থ সম্পাদক মিম্মা সুলতানা মিতার সঞ্চালনায় স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন মো. শহিদুল ইসলাম, মো. আনছার আলী, আবু নাসিফ খলিল, মো. জাহাঙ্গীর আলম, খন্দকার রাবিয়া খাতুন রাবু, পূর্ণিমা সাহা, আকিব তৌফিক চৌধুরী, হারুন অর রশিদ, হাবিব বাবু, ফয়সাল আহমেদ, মুরশীদ, গুরু কাজল মল্লিক, খালেকুজ্জামান, বনলতা, আব্বাসউদ্দীন, মরিয়ম সুলতানা ভুবন, আকলিমা খাতুন, আবুল কালাম আজাদ ও আব্দুল আলিম। চিরায়ত সাহিত্য থেকে পাঠ করেন অ্যাডভোকেট বজলুর রহমান, সরদার আলী হোসেন, জাকিয়া সুলতানা ঝুমুর, পূর্ণতা, শেখ রায়হান ওয়াফি ও খন্দকার জান্নাতুল মাওয়া। উৎসবজুড়ে ছিল বাঙালির সংস্কৃতি, সাহিত্য ও ঐতিহ্যের উজ্জ্বল উপস্থিতি। কবিতা, আলোচনা ও বই উন্মোচনের মধ্য দিয়ে নববর্ষের প্রথম দিনটি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।