জীবননগর অফিস
জীবননগর উপজেলায় বোরো মৌসুমে সেচ কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে কৃষকদের মাঝে ডিজেলচালিত সেচ পাম্পের জন্য প্রত্যয়নপত্র প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে এ কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, প্রত্যয়নপত্রের মাধ্যমে কৃষকদের পেট্রোল পাম্পের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানোর প্রয়োজন হবে না। তারা এখন নিজ নিজ এলাকার গ্রামীণ সাব-ডিলার বা এজেন্ট পয়েন্টে প্রত্যয়নপত্র বা কার্ড প্রদর্শন করে জ্বালানি ডিজেল সংগ্রহ করতে পারবেন। প্রত্যয়নপত্র ছাড়া কোনো কৃষক জ্বালানি তেল নিতে পারবেন না।
বর্তমানে বোরো ধানের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ শীষ বের হয়েছে, বাকি রয়েছে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ। এ সময়ে নিয়মিত সেচ অত্যন্ত জরুরি। যাতে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত না হয় এবং কেউ প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি মজুদ করতে না পারে, সে লক্ষ্যেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
কৃষক আহসান হাবিব বলেন, আমি চার বিঘা জমিতে বোরো ধান এবং দুই বিঘায় পেয়ারা ও শাক চাষ করেছি। প্রতিদিন ৬ থেকে ৭ লিটার ডিজেল লাগে। আগে পাম্পে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ২-৩ লিটার তেল পেতাম। এখন প্রত্যয়নপত্রের মাধ্যমে প্রয়োজন অনুযায়ী তেল পেলে ভালো ফলনের আশা করছি।
কৃষক আবু নাছব বলেন, গ্রামীণ এজেন্ট পয়েন্টে প্রত্যয়নপত্র দেখিয়ে প্রয়োজনমতো ডিজেল পাওয়া গেলে সেচে আর কোনো সমস্যা হবে না। হয়রানি কমলে উৎপাদনও বাড়বে।
আরেক কৃষক হোসেন আলী জানান, আমি তিন বিঘা জমিতে বোরো ধান করেছি। আগে পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতো। এখন সাব-ডিলার পয়েন্ট থেকে সহজেই ডিজেল পাচ্ছি। এতে ভোগান্তি কমেছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, বোরো মৌসুমে কৃষকরা যাতে সঠিকভাবে জ্বালানি ডিজেল পান, সে জন্য প্রত্যয়নপত্র প্রদান করা হচ্ছে। জীবননগর উপজেলায় ইতোমধ্যে ৯ হাজার ৪০০ কৃষককে প্রত্যয়নপত্র দেওয়া হয়েছে। এ কার্যক্রম চলমান থাকবে। কৃষকরা যেন নির্বিঘ্নে সেচ দিতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনের আশা, এ উদ্যোগে বোরো মৌসুমে সেচ কার্যক্রম সচল থাকবে এবং কৃষি উৎপাদনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
জীবননগরে কৃষকদের জন্য ডিজেল প্রত্যয়নপত্র চালু সাব-ডিলার পয়েন্ট থেকে তেল সংগ্রহে কমবে ভোগান্তি, সেচে গতি ফেরার আশা



