খন্দকার শাহ আলম মন্টু, আলমডাঙ্গা
আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার চারতলা মোড় ও রথতলা সংলগ্ন পুরাতন বাজার এলাকায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ‘জোড়াকোটা’ ভবনটি বর্তমানে ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়ে আছে| দীর্ঘদিনের অবহেলা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে জরাজীর্ণ হয়ে পড়া এ স্থাপনাটি এখন এলাকাবাসীর জন্য বড় ধরনের ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠেছে| স্থানীয়দের দাবী, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে যেকোনো সময় ভবনটি ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে|
জানা যায়, ১৯৪৫ সালে ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এই স্থাপনাটি মূলত দুটি পাশাপাশি ভবনের সমš^য়ে গড়ে ওঠে, যা স্থানীয়দের কাছে ‘জোড়াকোটা’ নামে পরিচিত| একসময় এটি ছিল আলমডাঙ্গার পুরাতন বাজারের অন্যতম বৃহৎ ব্যবসা কেন্দ্র এবং স্থানীয় বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ অংশ|
দেশভাগের পর মূল মালিক ভারতে চলে গেলে ভবনটি সরকারি নিয়ন্ত্রণে আসে| বর্তমানে ভবনের একাংশে সরকারি ডিসিআরের মাধ্যমে চারটি পরিবার বসবাস করছে, তবে অপর অংশ দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে|
সরেজমিনে দেখা গেছে, ভবনের দেয়ালের প্লাস্টার খসে পড়ছে, বিভিন্ন স্থানে বড় ধরনের ফাটল সৃষ্টি হয়েছে এবং লোহার রড বেরিয়ে এসেছে| ভেঙে গেছে দরজা-জানালা ও বারান্দার বিভিন্ন অংশ| কোথাও কোথাও দেয়ালের পুরুত্ব ২০ থেকে ৩০ ইঞ্চি হলেও তা এখন আর নিরাপদ নয়| ভবনের এমন বেহাল অবস্থা দেখে সহজেই বোঝা যায়, এটি যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে|
উল্লেখ্য, ভবনটির দুই পাশ দিয়েই ব্যস্ত সড়ক রয়েছে, যেখানে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ চলাচল করে| ফলে এটি ধসে পড়লে বড় ধরনের প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে|
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ˆশশব থেকেই ভবনটি দেখে আসছি| এখন এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে| যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে| আরেকজন বলেন, এটি এখন জনসাধারণের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে| দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় বিপদ হতে পারে|
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত ভবনটি সংস্কার অথবা অপসারণ করে সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক| পাশাপাশি পৌর কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা| দুর্ঘটনা ঘটার পর নয়, বরং আগেভাগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করাই উচিত| তা না হলে ঐতিহ্যবাহী এই স্থাপনাটি যেমন হারিয়ে যাবে, তেমনি ঘটতে পারে অপূরণীয় ক্ষতি|
ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আলমডাঙ্গার ঐতিহ্যবাহী ‘জোড়াকোটা’ ভবনসংস্কার করা না হলে ঘটতে পারে বড় ধরণর দূর্ঘটনা



