নাজমুল হক শাওন, আলমডাঙ্গা
গ্রীষ্ম এলেই প্রকৃতি যেন নতুন রঙে সেজে ওঠে| আর সেই রঙের সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন প্রকাশ ঘটে কৃষ্ণচূড়ার ফুলে| আলমডাঙ্গা উপজেলার জিকে সেচ ক্যানেলের পাশজুড়ে এখন দেখা মিলছে এমনই এক অপরূপ সৌন্দর্যের| ক্যানেলের দুই ধারে সারি সারি কৃষ্ণচূড়া গাছ লাল ফুলে ভরে উঠে যেন সৃষ্টি করেছে রঙের উৎসব| দূর থেকে তাকালে মনে হয়, সবুজ প্রকৃতির বুকজুড়ে কেউ লাল আগুনের চাদর বিছিয়ে দিয়েছে|
প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ক্যানেলপাড়ে ভিড় করছেন নানা বয়সী মানুষ| কেউ পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসছেন, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলছেন, আবার কেউ নিরিবিলি পরিবেশে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করছেন| বিশেষ করে বিকেলের পড়ন্ত রোদে কৃষ্ণচূড়ার রঙ আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে, যা সহজেই নজর কাড়ে পথচারীদের|
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিবছর গ্রীষ্ম মৌসুমে কৃষ্ণচূড়া ফুটলেও এবার গাছগুলোতে ফুলের সমারোহ অনেক বেশি| ফলে পুরো এলাকা যেন এক প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে| সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এই সৌন্দর্যের ছবি ছড়িয়ে পড়ছে ব্যাপকভাবে| অনেকেই আলমডাঙ্গার এই কৃষ্ণচূড়ার সৌন্দর্যকে জেলার অন্যতম দর্শনীয় দৃশ্য হিসেবে আখ্যায়িত করছেন|
হাটবোয়ালিয়া থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা আল আমিন হোসেন বলেন, ব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি দূর করতে এমন প্রাকৃতিক পরিবেশ মানুষের মনে প্রশান্তি এনে দেয়| নগরজীবনের কোলাহল থেকে দূরে ক্যানেলপাড়ের এই লাল-সবুজের মেলবন্ধন যেন এক টুকরো শান্তির ঠিকানা|
এলাকাবাসী মনে করেন, এমন সৌন্দর্য ধরে রাখতে গাছগুলোর পরিচর্যা ও সংরক্ষণে সংশ্লিষ্টদের আরও উদ্যোগী হওয়া প্রয়োজন| কারণ কৃষ্ণচূড়ার এই মনোমুগ্ধকর রূপ শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যই বাড়ায় না, বরং এলাকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে|
আলমডাঙ্গার জিকে সেচ ক্যানেলের পাশের এই কৃষ্ণচূড়ার উৎসব এখন শুধু স্থানীয়দের নয়, আশপাশের এলাকার মানুষের কাছেও আকর্ষণীয় এক প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের নাম হয়ে উঠেছে|



